রাহুলের ডিজিটাল সত্যাগ্রহ

19

নিউজ ডেস্ক: দেশ জুড়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে সব বিক্ষোভ-প্রতিবাদকে একটি জায়গায় আনতে সত্যাগ্রহ ওয়েবসাইট চালু করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক ভিডিয়ো পোস্টে তিনি বলেছেন, গোটা দেশের মানুষ নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন এবং প্রায়শই সেই লড়াই তারা একাই লড়ছেন। জেন-জি, শিক্ষার্থী, কৃষক, আদিবাসী, দলিত, মহিলা, সবার সংগ্রামেরই রয়েছে নিজস্ব এক গল্প। কিন্তু একা যে কণ্ঠস্বর সোচ্চার হয়, তা প্রায়শই দাবিয়ে দেওয়া হয়। এই কণ্ঠস্বরগুলোকে একটি মানচিত্রের মাধ্যমে একত্রিত করার উদ্যোগই হল ‘সত্যাগ্রহ’। বাপু আমাদের শিখিয়েছিলেন, সত্যই হল সর্বশ্রেষ্ঠ অস্ত্র। তবে তার চেয়েও বড় অস্ত্র হল সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানো। আপনিও যদি কোনও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকেন, তবে আপনার সেই সংগ্রামের কথা আমাদের জানান। আপনার সেই গল্প মানচিত্রে স্থান পাবে। আপনি দেখতে পাবেন, আপনার মতোই আরও অনেকে লড়াই করছেন। আর আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করব, সংসদে, রাজপথে, চিঠি লিখে কিংবা যেখানেই প্রয়োজন হবে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে এটাই আমার দায়িত্ব।
২ অক্টোবর, দিল্লির রাজপথে জ্ঞানেশকুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় পুলিশ আটক করেছে। সেনিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন, আজ গান্ধী জয়ন্তী। আর আজ, হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ভোট চুরির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে শান্তিপূর্ণভাবে। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে রাস্তায় নেমেছে তারা। তাদের দাবি স্পষ্ট: জ্ঞানেশকুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। আর মোদী-শাহ সরকারের প্রতিক্রিয়া কী? তরুণ-তরুণীদের রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের একমাত্র অপরাধ হল, তারা ভোট চুরি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস দেখিয়েছে। বাপু তো আমাদের এটাই শিখিয়েছিলেন যে সত্য কথা বলো, শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই করো। আর ঠিক এই বিষয়টিই এই সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভীত করে তোলে। কারণ লাঠি দিয়ে জনতাকে থামানো যায়, কিন্তু প্রশ্নকে নয়। জ্ঞানেশকুমারকে বিদায় নিতেই হবে। আর যে ব্যবস্থা তাকে ওই পদে বসিয়েছে, সেই ব্যবস্থাকেও বিদায় নিতে হবে।