অসমে বন্যাত্রাণে রণদীপ হুডা

26

নিউজ ডেস্ক: অসমে বন্যাত্রাণে সক্রিয় ভূমিকায় বলিউড তারকা রণদীপ সিং হুডা। অসমে বন্যায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৭ জনের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উজান অসমের শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট ও যোরহাট জেলা। বন্যাত্রাণে অসমের বিভিন্ন সংগঠন, দল, অসরকারি সংস্থা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নেমেছে শিখ সংগঠনও।


উজান অসমের অন্তত তিন হাজার কিলোমিটার ঘুরে বিভিন্ন জায়গায় বন্যাত্রদের ওষুধপত্র, জামাকাপড়, খাবার বণ্টন করছে ৪০ জনের শিখ স্বেচ্ছাসেবী দল। বন্যাত্রাণে এই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বলিউড তারকা রণদীপ সিং হুডা। শিখ স্বেচ্ছাসেবরী অসমের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, এসেছেন দিল্লি, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব থেকে। এক সপ্তাহ ধরে অসমে বন্যাত্রাণে কাজ করছে বিভিন্ন শিখ সংগঠন। দুমাস থাকার কথা ঘোষণা করেছে অসমের শিখ সংগঠনের সভাপতি রবীন্দর সিং।


রবীন্দর সিং বলেছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা এসেছে দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব থেকে। ট্রেন সহ অনেকেই সড়কপথে এসেছেন এখানে। ওষুধপত্র ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী আনা হয়েছে বিমানে। অসমের বাইরে থেকে এসেছে ৪০ জন আর তাদের সঙ্গে বন্যাত্রাণে কাজ করছে অসমের ২০০ শিখ।


শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাটে কাজ করছে শিখদের সংগঠন গ্লোবাল শিখ, হেমকুন্ত ফাউন্ডেশন, খালসা এইড সহ বিভিন্ন সংস্থা। ১০টি নৌকার ব্যবস্থা করেছে শিখ সংগঠনগুলি। ত্রাণসামগ্রী বণ্টনের পাশাপাশি এখনও জলের তলায় থাকা গ্রামবাসীদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এসব নৌকায়। এ ছাড়া অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের মতো লঙ্গর খোলা হয়েছে বিভিন্ন জেলায়, যেখানে বন্যার্তরা দুবেলা খেত পারবে। এ ছাড়া শিবসাগরের গুরুদোয়ারা থেকে খাবার আসছে বন্যার্তদের জন্য।


শিবসাগর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের মাঝে খাবার বণ্টন করেছেন বলিউড তারকা রণদীপ হুডা। তিনি বলেছেন, সবার ওপরে মানবতা। যখনই কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে, শিখরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। অসমে ভয়াবহ বন্যার সবারই উচিত সাহায্য করা। বন্যার ভয়াবহতা খতিয়ে দেখেছে খালসা এইড সংগঠন। সেই অনুযায়ী কোথাও কমিউনিটি কিচেন বা লঙ্গর খোলা হয়েছে। এ ছাড়া শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের কাছে। রণদীপ হুডা বলেন, রান্নার স্টোভ, কেরোসিন, ত্রিপল, রান্নার সরঞ্জাম, স্যানিটারি ন্যাপকিন, জুতো দিচ্ছি আমরা।
গ্লোবাল শিখ সংগঠনের পক্ষে ইতিমধ্যে এক হাজার বিছানা ও ম্যাট্রেস বণ্টন করা হয়েছে বন্যার্তদের জন্য। বন্যাত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য উজান অসমে শিখ সংগঠনের প্রতিনিধিরা কাজ করবে অন্তত দুমাস।