নিউজ ডেস্ক: আগ্রা স্টেশনে লাল সুটকেসে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নয়া মোড়। মণিপুর থেকে গ্রেফতার শিলচরের এক দম্পতি! নাম রাহুল ওরফে মাণিক উদ্দিন লস্কর এবং ভগবতী মাঝি ওরফে আয়েশা বেগম। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে হদিশ মেলে মাণিক ও ভগবতীর। কাছাড় পুলিশের সহযোগিতায় চেন্নাই পুলিশ জিরিবাম থেকে গ্রেফতার করে স্বামী-স্ত্রীকে।
৬ আগস্টের ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের আগ্রা স্টেশনে তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস থেকে উদ্ধার হয় একটি লাল সুটকেস। তার মধ্যে ছিল এক মহিলার পচা-গলা দেহ। খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে সুটকেসে ভরে রাখা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। সেই অনুয়ায়ী শুরু হয় তদন্ত। বিষয়টি নিয়ে আগ্রা রেল পুলিশ চেন্নাই রেল পুলিশের যোগাযোগ করে।

স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে মাণিকের হদিশ পায় পুলিশ। সিসিটিভি-তে নজরে আসে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাণিকের সঙ্গে ছিল তাঁর স্ত্রী ভগবতী মাঝি। ধীরে ধীরে তদন্তে তাদের পরিচয় মেলে। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দু’জনকে লাল সুটকেস নিয়ে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে ঢুকতে দেখা যায়। এরপর তারা সেটি দিল্লিগামী তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসে রেখে চলে যায় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরে আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে সেটি উদ্ধার করে রেলপুলিশ।
তদন্তে নেমে ফুটেজ ও একটি পলিথিন ব্যাগে চেন্নাই লেখা দেখে তামিলনাডুর গুডুভানচেরির এক ভাড়াবাড়ির হদিশ মেলে। এরপর তদন্তে উঠে আসে আরও ভয়াবহ তথ্য। ওই বাড়িতেই মহিলাকে খুন করা হয়েছিল। এবং ভগবতী ও মাণিক উভয়েই এতে জড়িত। খুনের পর দেহের কিছু অংশ বিরিয়ানি রান্নার পাত্রে রাখা হয়েছিল। এবং বাকী দেহাংশ সুটকেসে ভরে রাখা হয়েছিল ট্রেনে। মৃত মহিলার নাম হায়াতুন নিশা (৩৮)। তাঁর বাড়ি ওড়িশার জগৎসিংপুরে। তিনি কাজের সূত্রে চেন্নাইয়ে থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি কাপড়ের কোম্পানিতে চাকরি করতেন মাণিক এবং নিশা। তারা একই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। বিবাহিতা হায়াতুন নিশার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল মাণিকের। পুলিশের অনুমান, হায়াতুন নিশা, মাণিক উদ্দিন লস্কর এবং ভগবতী মাঝি মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়। এরপরই খুন হন নিশা।
পুলিশ বহুদিন ধরে তাদের খোঁজে ছিল। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার মণিপুরের জিরিবাম থেকে গ্রেফতার করা হয় মাণিক ও ভগবতীকে। কী কারণে খুন? এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কী না সেদিকটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।