ইডি তলবে অবশেষে সাড়া সোনা পাপ্পুর, সিজিওতে হাজিরা

12

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা : সোমবার অবশেষে ইডি দফতরে গেলেন সোনা পাপ্পু। জমি দখল, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে কসবা এলাকার সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে। সেই সমস্ত মামলার তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট। একাধিকবার তাঁকে তলব করেও সাড়া মেলেনি। অবশেষে কাঁকুলিয়ার অশান্তির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু হাজির হলেন সিজিওতে। তাঁর দাবি, ‘আমি কোনও দোষ করিনি’।

গত ২ এপ্রিল সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। উদ্ধার হয় প্রায় ২ কোটি নগদ টাকা। এ ছাড়াও মিলেছিল একটি দামি গাড়ি ও বেশ কিছু সম্পত্তির নথি। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুর নামে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, কসবা, বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

জমি দখল, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ। অস্ত্র আইনেও মামলা। একাধিক অভিযোগে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট। বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলার সূত্রেই ফার্ন রোডে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। ইডির সামনে হাজির হয়েছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বয়ানে অসঙ্গতির কারণে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।

গত ১ ফেব্রুয়ারি গোলপার্কের কাছে কাঁকুলিয়া রোডে সোনা পাপ্পুর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বোমা ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। বেশ কিছু দুষ্কৃতী রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ জন গ্রেফতার হলেও সোনা পাপ্পু অধরাই থেকে গিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সোনা পাপ্পু। তৎকালীন শাসক দলের অনেক নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি প্রকাশ্যে চলে আসে। ঢাকুরিয়া এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভোটের সময় শাসক দলের অস্ত্র সোনা পাপ্পু। প্রায় ৫০-৫৫টি বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও ওঠে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের তরফে অবশ্য সে সম্পর্ক ঝেড়ে ফেলা হয়।

এরপরও ধরা পড়েননি সোনা পাপ্পু। অথচ বারবার তিনি ফেসবুক লাইভে এসেছেন। কাঁকুলিয়া যোগ অস্বীকার থেকে শুরু করে রাকেশ সিংয়ের প্রার্থী হওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন। তারপরও তাঁর টিকিটির কাছে পৌঁছতে পারেনি কলকাতা পুলিশ। অবশেষে সেই সোনা পাপ্পু হাজির হলেন সল্টলেকের সিজিওতে ইডির দফতরে।