জ্ঞানেশকুমারের বিরুদ্ধে মামলা সুপ্রিম কোর্টে

20

নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমার গুপ্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই আবেদনটি দায়ের করেছেন। এতে আরও দাবি জানানো হয়েছে যে, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই জ্ঞানেশ কুমার যেসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকা জারি করেছিলেন এবং সফটওয়্যারে যেসব পরিবর্তন এনেছিলেন, সেগুলোকে অসাংবিধানিক ও বাতিল বলে ঘোষণা করা হোক।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিষয়ে, যার মধ্যে ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অগোচরে বা তাঁদের সুপারিশের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর প্রেক্ষিতেই এই আপত্তিগুলো জানানো হয়েছিল।
জ্ঞানেশ কুমার, সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মণীশ গর্গ, ডিরেক্টর জেনারেল (আইটি) সীমা খান্না এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য দায়ী অন্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ৩২ নম্বর ধারায় আইনি প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, ফর্ম ৬-এ অননুমোদিত পরিবর্তন, ভোটার তালিকার ডেটাবেস কেন্দ্রীভূত করা, ‘ইসিআইনেট’ (ECINet) ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের তালিকা পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থতা এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) নাম ব্যবহার করে ভোটারদের তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে ১৬.১০ লক্ষ আপিল দায়ের করা।
এই আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন জ্ঞানেশকুমারের অধীনে, পূর্ণ কমিশনের সম্মতি ছাড়া বা নির্বাচন কমিশনারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের বিরুদ্ধে গৃহীত, অনুমোদিত বা বাস্তবায়িত সব সিদ্ধান্ত, নির্দেশিকা, নির্দেশ এবং সফটওয়্যার পরিবর্তনকে অসাংবিধানিক, এক্তিয়ার বহির্ভূত এবং শুরু থেকেই বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ECINet ও ERONet ডেটাবেসের ফরেনসিক অডিট করার এবং SIR চলাকালীন ৩০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে। এ ছাড়া আবেদনকারী প্রস্তাব করেছেন যে, ভোটার তালিকাভুক্তির বিষয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যে ১৬.১০ লক্ষ আপিল অননুমোদিতভাবে দায়ের করা হয়েছিল, তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করুক SIT। মূল ‘ফর্ম ৬’ পুনর্বহালেরও আর্জি জানানো হয়েছে।