ভেঙে ‘চুরমার’ তৃণমূল, পদ হারা অভিষেক

33,814

নিউজ ডেস্ক: গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরিয়েছে। ২৯ দিনের মাথায় কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। বিদ্রোহের আগুনে দগ্ধ দল। এই অবস্থায় দলের সমস্ত সংগঠন ভেঙে দেওয়া হল। এক্স পোস্ট করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়েছে।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের সমস্ত কমিটি এবং শাখা সংগঠনগুলি ভেঙে দেওয়া হল। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, মহিলা সংগঠন বলে আর কিছুই থাকল না। এমনকি মুখপাত্রদের কমিটিও এদিন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সবই নতুন করা সাজানো হবে বলে এক্স পোস্টে জানানো হয়েছে।

এদিন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত কমিটি, শাখা সংগঠনগুলি এই মুহূর্ত থেকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল প্রতিটি স্তরে সাংগঠনিক বিচার বিবেচনা এবং আত্মবিশ্লেষণের করবে এবং তার ভিত্তিতে আগামী দিনে মূল কমিটি এবং শাখা সংগঠনগুলি নতুন করে তৈরি করা হবে। আগামী দিনে সমস্ত রকম চ্যালেঞ্জ ও উদ্দেশ্য সাধনে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দল বদ্ধপরিকর।’

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এদিনের এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই দলের সমস্ত নেতাই তাদের পদ খোয়ালেন। উল্লেখযোগ্যভাবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে আর থাকলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই এনিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন দলের অপেক্ষাকৃত নবীন বিধায়করা। তারপর তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি সকলের জানা।

তৃণমূলের পরিষদীয় দলে এই মুহুর্তে বিদ্রোহীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়কের সই সহ একটি তালিকা বিধানসভায় জমা পড়েছে। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিনই বিধানসভার স্পিকার রথীন বোসকে একটি চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, উপ বিরোধী দলনেতা অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচেতক ফিরহাদ হাকিমকে নিয়োগ করছে সর্ভভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার নজির ও প্রথা অনুযায়ী এঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হোক।’ যদিও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চিঠি কোনও মূল্য পাবে কিনা তা সময়ই বলবে।

দলে বিদ্রোহের আগুন লেলিহান শিখায় পরিণত হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, যাঁরা দলে ছেড়ে যেতে চাইছেন তাঁরা চলে যেতে পারেন। তিনি নতুন করে দল গঠন করবেন। এদিনের পদক্ষেপ সেই পথেই বলে মনে করা হচ্ছে।