মণিপুরে ফের হিংসায় পুড়ল বাড়িঘর সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ জওয়ান

21

নিউজ ডেস্ক: কিছুতেই হিংসা থামছে না মণিপুরে। সেনাপতি জেলার তাফো গ্রামে দুষ্কৃতীরা পুড়িয়ে দিল দুটি বাড়ি। পুড়ে যাওয়া বাড়ি দুটিতে বাস করত নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের পরিবার।
ঘটনার পর সেনাপতি জেলায় নাগা ও কুকিদের সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সিআরপিএফ সাব-ইন্সপেক্টর প্রদীপ সিং আহত হয়েছেন। তাঁর বাঁপায়ে গুলি লাগে। তাঁকে সেনাপতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ জেলার লিয়াংমাই নাগা গ্রামে কুকি গোষ্ঠী আক্রমণ করেছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। এদিকে, সেনাপতি জেলার পুলিশ হেডকোয়ার্টারের কাছে ইম্ফলের সঙ্গে ডিমাপুরের সংযোগপথ ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ কের। রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে গ্রামবাসীরা।
কুকি সম্প্রদায় হুমকি দিয়েছে যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করতে না পারলে তীব্র আন্দোলন হবে। বাড়ি জ্বালানোর ঘটনাকে হৃদয়বিদায়ক, অমানবিক এবং গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবৃতি দিয়েছে কুকি সংগঠন।
১৩ মে নোনি ও কাংপোকপি জেলায় দুটি পৃথক ঘটনায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা চারজনকে হত্যা করে। এঁদের মধ্যে ছিলেন চার্চের তিন নেতা এবং একজন সাধারণ নাগা। এরপর কুকি-নাগা সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ তীব্র রূপ ধারণ করে। দুপক্ষের মোট ৪৮ জনকে পণবন্দি করা হয়। একমাস পর যার মধ্যে কাংপোকপি জেলার খারাম ভাইফেই গ্রামে ছয় নাগার দেহ উদ্ধার হয়। এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত করছে। জুলাই মাসে এক দম্পতি সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ।
সোমবার ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা আগুন লাগিয়ে দেয় তাফো গ্রামের দুটি বাড়িতে। ঘটনার পর দুষ্কৃতীদের খোঁজে এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
মণিপুরে তিন বছর আগে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল মৈতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মাঝে। মাস তিনেক ধরে সংঘর্ষ চলছে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মাঝে। কিন্তু সোমবার ভোরের ঘটনায় আক্রান্ত কুকি ও পৌমাই নাগা সম্প্রদায়ের বাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই সামগ্রিক নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন তাফো গ্রামের বাসিন্দারা।
ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি স্তরে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। তবে তাফো গ্রাম সহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি জাতিগত সংঘাতের পাশাপাশি বর্তমানে জনগণনা স্থগিত রেখে এনআরসি চালুর দাবিতে তীব্র আন্দোলন ও ছাত্র বিক্ষোভ চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় একাধিক জেলায় ধর্মঘট ও সরকারি অফিসে তালা ঝুলছে, যা রাজ্যটির বর্তমান পরিস্থিতিকে ফের উত্তপ্ত করে তুলেছে।