নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ের পর ধাক্কা যেন বাঁধ মানছে না ঘাসফুল শিবিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের মধ্যেই ঘর খালি হচ্ছে তৃণমূলে। আগেই ২০ তৃণমূল সাংসদ এনডিএ-র সঙ্গে থাকার বার্তা দিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। সূত্রের খবর, এবার বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসূফ পাঠান ও আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের সঙ্গে একই তালিকায়। ইউসূফ পাঠান (বহরমপুর)-কে নিয়ে শুরু থেকেই চর্চা হচ্ছিল অমিত শাহ নাকি ইউসূফকে ফোন করেছিলেন। যদিও সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধীরে ধীরে ইউসূফকে নিয়েও জল্পনাই সত্যি হচ্ছে।
অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি তৃণমূল শিবিরে থাকতে চাইছেন না এই দুই সাংসদও। ফলে লোকসভায় ২৮ আসন থেকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা হল ২২। এরই মধ্যে দিল্লির রাজনীতিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষও বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গেই নাম লেখাতে চলেছেন। তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত সায়নী। সূত্রের খবর, তিনিও এবার শুধু বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর গ্রিন সিগনেলের অপেক্ষায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ ব্লকে যুক্ত হতে চেয়ে সই করেছিলেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসাত), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), শতাব্দী রায় (বীরভূম), অসিত মাল (বোলপুর), বাপি হালদার (মথুরাপুর), জুন মালিয়া (মেদিনীপুর), জগদীশ বসুনিয়া (কোচবিহার), কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম), অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), পার্থ ভৌমিক (ব্যারাকপুর), শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব), দেব (ঘাটাল), আবু তাহের (মুর্শিদাবাদ) এবং খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি)।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (শ্রীরামপুর), মহুয়া মৈত্র (কৃষ্ণনগর), সৌগত রায় (দমদম), সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (কলকাতা উত্তর), কীর্তি আজাদ (বর্ধমান দুর্গাপুর)
বিধানসভাতেও একই অবস্থা তৃণমূলের:
বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয় বিদ্রোহ! এরপরেই পরিষদীয় দলের অধিকার হাতছাড়া হয়েছে তৃণমল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই শোনা যাচ্ছিল, একই নকশায় সংসদীয় দলও এবার ভাঙতে চলেছে। সেই জল্পনার মাঝেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার দিল্লি উড়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় বৈঠক। সেই বৈঠকেই নজিরবিহীন ছবি সামনে আসে। দেখা যায়, বৈঠকের শুরুতেই সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বৈঠকেও একেবারে তাঁর পাশে বসতে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। রাজধানীতে সেই বৈঠক চলাকালীনই ভেঙে টুকরো হয়ে যায় তৃণমূলের সংসদীয় দল। বস্তুত, ছবি যা দাঁড়িয়েছে তাতে বলাই যায়, মমতা ইন্ডিয়ায়, আর তৃণমূল NDA-তে।