ফের গাড়ি পুড়ল মেঘালয়ে

44

নিউজ ডেস্ক: গাড়ি ভাঙচুরের পর এবার পেট্রল বোমা হামলা মেঘালয়ে। শুধু শিলং নয়, মেঘালয়ের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি সম্পত্তিতে হামলা হয়েছে। লাচুমাইরে এলাকায় ন্যাশনাল পিওপলস পার্টির একটি পুরনো অফিসে শুক্রবার সন্ধ্যায় পেট্রল বোমা হামলা হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত বোমাটি বিস্ফোরিত হয়নি।


বুধবার, ১৯ আগস্ট, শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের কালো পতাকা নিয়ে বাইক মিছিলের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিলং। অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, বিশেষ করে অসমের নম্বর প্লেটওয়ালা গাড়ি। কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, আহত হয়েছে অসমের একটি পরিবার।


পশ্চিম খাসি পাহাড়ে দুটি সরকারি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাওখলামে পিডব্লিউডি সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারের অফিসে পেট্রল বোমা ছোড়া হয়। এ ছাড়া পেট্রল বোমা হামলা হয়েছে মাওশিনরাট সিভিল সাব-ডিভিশনে এসডিও কার্যালয়ে। দুটি অফিসেও সামান্য ক্ষতি হয়েছে।


বৃহস্পতিবার শিলংয়ের নংমেংসং পুলিশ আউটপোস্টে ছোড়া হয়েছে, একটি চেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস হয়। তবে হতাহতের খবর নেই।


শুক্রবার দুপুরে রি-ভোইয়ে দুটি সরকারি গাড়ি এবং একটি মোটর সাইকেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় সাইডেনের জলসম্পদ বিভাগের কার্যালয় চত্বরে। দুটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত, এ ছাড়া একটি সরকারি গাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত।


শুক্রবার দুপুরে পেট্রল বোমা ছোড়া হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড়ের মাওলংউয়িরে পশুপালন বিভাগের কার্যালয়ে। বোমাটি পড়েছিল ছাদে তবে ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।


মেঘালয়ের অশান্ত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ২৫ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে মেঘালয় সরকারকে সাহায্যের জন্। এই পাঁচ কোম্পানির মধ্যে সিআরপিএফ পাঁচ কোম্পানি বাকি এক কোম্পানি RAF।


বুধবারের শিলংয়ে হিংসার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫টি এফআইআর করা হয়েছে, জানিয়েছেন পূর্ব খাসি পাহাড়ের এসপি বিবেক সিয়াম। খাসি ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক সহ তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


শিলংয়ে হিংসার জেরে বিরনিহাট-জোড়াবাট পথ দুদিক থেকেই বন্ধ। দুটি রাজ্যের ট্যাক্সিচালকরা কর্মবিরতি পালন করছে। অসমের লাগোয়া মেঘালয়ের রি-ভোই জেলার প্রশাসন এখন গুয়াহাটিতে না-যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।


শিলং-মেঘালয়ের যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করার কথা বলেছে মেঘালয় প্রশাসন।


শুক্রবার খানাপাড়ায় মেঘালয়ের নম্বর প্লেটওয়ালা একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে মেঘালয়-অসমের মধ্যে শুধু অ্যাম্বুল্যান্স এবং অত্যাবশ্যক সামগ্রী নিয়ে যান চলাচল করছে।


পরিস্থিতি শান্ত করতে ইতিমধ্যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কথা বলেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে। এ ছাডা় অসমের মন্ত্রী অতুল বরা কথা বলছেন মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াভালাং ধারের সঙ্গে।


অসমের যেসব গাড়ির ক্ষতি হয়েছে শিলংয়ের হিংসায় সেসব গাড়িচালকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে মেঘালয় সরকারের থেকে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে মেঘালয়ে গাড়ি যাবে না বলে তারা বদ্ধপরিকর। যতদিন না তাদের দাবি পূরণ হচ্ছে মেঘালয়ের কোনও গাড়িকে অসমে ঢুকতে না-দেওয়ার দাবি তাদের।