স্মিতের সঙ্গে বার্তালাপ প্রধানমন্ত্রীর

35

নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলা রুখে দেওয়া ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি উল্লেখ করেন যে, পরিস্থিতি যদি ভিন্নভাবে মোড় নিত, তবে তা ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তির ওপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারত।
এমনটা না ঘটলে কে জানে ভারতকে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত, ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত এবং তাঁদের কীভাবে দেখা হত। আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় একটি কাজ করেছেন, আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন স্মিত মাচ্ছরকে বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

স্মিত মাচ্ছরকে কী বলেছেন মোদী?
সোশাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে বিভিন্ন পাকিস্তানি হ্যান্ডেলে একটি বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে যে, ঘটনার পরিণতি যদি অন্যরকম হত, তবে হয়তো ভারতীয় পাইলটকেই এর জন্য দায়ী করা হত। সেই প্রেক্ষাপটেই মাচ্ছরকে ওপরের কথা বলেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রী মোদী সরাসরি সেসব পোস্টের উল্লেখ করেননি, তবে ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত সেবিষয়ে তাঁর মন্তব্য সেই আলোচনারই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে, এখানে কেবল ফ্লাইদুবাই বিমানের ১৭৪ জন যাত্রীর জীবনই ঝুঁকির মুখে ছিল না, বরং সামগ্রিকভাবে ভারতীয় পাইলটদের সুনামও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারত।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ গর্বের সঙ্গে বলতে পারে যে ভারতীয়রা এমন নয় যারা অন্যের প্রাণ কেড়ে নেয়, বরং তারাই, যারা অন্যদের জীবন বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত।
বিশ্বজুড়ে বীর হিসেবে প্রশংসিত মাচ্ছরকে ওমানি কো-পাইলট নৃশংসভাবে কুঠারাঘাত করেছিলেন, যখন তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তবে সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন কো-পাইলটকে প্রতিহত করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে ককপিটের দরজা খুলে দেন, যার ফলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে আক্রমণকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। মাচ্ছরের উপস্থিত বুদ্ধি ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রীর প্রাণরক্ষা করে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় ৩৯ বছর বয়সি ও দুই সন্তানের জনক স্মিত মাচ্ছর জানান যে, কো-পাইলটের আক্রমণ প্রতিহত করার সময় তিনি ‘হনুমান চালিসা’ পাঠ করছিলেন।
মাচ্ছর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বলেন, আমি মারাত্মক আহত হয়েছিলাম, কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম যে আমাকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং কিছু একটা করতে হবে। তা না করলে আমি মারা পড়তাম।