নিউজ ডেস্কঃ ৬ বছর পর ফের খুলল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র নাথু-লা পাস। ভারত-চিন দুদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে খুলল নাথু-লা। প্রতি সপ্তাহে সোম থেকে বৃহস্পতি পর্যন্ত চলবে ব্যবসা। মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পর্যটকদের জন্যও খোলা থাকবে ১৪,১৪০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নাথু-লা।
কোভিড মহামারির সময় থেকে গত ৬ বছর টানা বন্ধ থাকার পর শেষপর্যন্ত খুলে দেওয়া হচ্ছে নাথু-লা পাস। নাথু-লা পাস খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত-চিন আন্তর্জাতিক বাজারও খুলে গেল। পুরনো সিল্ক রোডের অন্যতম অংশ নাথু-লা শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। ভারত ও চিন দুদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাণিজ্য পথ খুলে দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিকভাবে।
এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োচিত একটি সিদ্ধান্ত, বলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নাথু-লা খুলে যাওয়ায় তাই ব্যবসায়ীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যও ইতিবাচক পদক্ষেপ এটা, ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
২০২০ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ভারত-চিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নাথু-লা পাসকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪,১৪০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গিরিপথ সিকিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাথু-লা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সিকিম তথা উত্তর-পূর্বের বাজারে।

নাথু-লা ফের খুলে যাওয়ায় দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন গতি পাবে বলে ধরে নিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকবে নাথু-লা। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বরফের জন্য বছরের বাকি সময় বন্ধই থাকে নাথু-লা পাস। পূর্ব নির্ধারিত ৩৬ প্রকার সামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয় চলবে।
১৯৬২-র ভারত-চিন যুদ্ধের পর প্রায় ৪৪ বছর বন্ধ ছিল নাথু-লা পাস। যুদ্ধের পর ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বার খুলে দেওয়া হয় নাথু-লা। কিন্তু ২০২০ সালে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। শনিবার থেকে ফের স্বাভাবিক হয়ে গেল দেশি, বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র নাথু লা।
চুক্তি অনুযায়ী ভারত থেকে রফতানি করা হবে, হস্তশিল্প, তাঁত সামগ্রী, কম্বল, কৃষি সরঞ্জাম, মশলা, রেডিমেড পোশাক, বাসন ইত্যাদি। আবার তিব্বত থেকে আমদানি করা হবে, রেডিমেড পোশাক, জুতো, ইয়াকের চামড়ার তৈরি সামগ্রী, ছাগল, মাখন ইত্যাদি।
যদিও আগের মতোই সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য খুব সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ীদেরই অনুমতি দেওয়া হবে। সংখ্যা যাই হোক, নাথু-লা সীমান্তে ফের ব্যবসার শুরু হবে এতেই খুশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।