নিউজ ডেস্ক: ফের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকে কারচুপির অভিযোগ। নয়ডার পিএনবি শাখায় গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৩৫ কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ। ব্যাংকের ম্যানেজার সহ পাঁচ কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতে গ্রাহকদের অভিযোগ মিটছে না।
গ্রেটার নয়ডায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের একটি শাখা থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খোয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের অজান্তেই এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
পিএনবি-র সেক্টর পিআই-১ শাখায় এই অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন যে, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং তাঁদের সম্মতি ছাড়াই মেয়াদপূর্তির আগেই ফিক্সড ডিপোজিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টধারকরা ৩৫ কোটি টাকা খোয়া যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
বেশ কয়েকজন অ্যাকাউন্টধারক জমানো অর্থের বিষয়ে জবাব চাইতে ব্যাংকের সামনে জড়ো হন। একটি কৃষক ইউনিয়নের সদস্যরাও সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁরা খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধার এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই অর্থ স্থানান্তর
বিজেন্দ্র সিং নামে এক গ্রাহক জানিয়েছেন যে, তাঁর অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স প্রায় ৮৭-৮৮ লক্ষ টাকা থেকে কমে ১ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে।
হানিফ খান নামে আরেকজন অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৯ লক্ষ টাকা উধাও হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমার সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৩৯ লক্ষ টাকা ছিল, কিন্তু এখন সেখানে কিছুই দেখাচ্ছে না। আমি কোনও মেসেজ পাইনি, এমনকি অর্থ স্থানান্তরের অনুমোদনের জন্য কোনও নথিতে স্বাক্ষরও করিনি।
জাকির নামে আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৯.৫ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে গেছে। তিনি জানান, লেনদেন সংক্রান্ত কোনও বার্তা তিনি পাননি এবং ব্যাংকে যাওয়ার পরই এই অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারেন।
এই অভিযোগগুলো সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ফিক্সড ডিপোজিট উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁদের অজান্তেই অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে এবং কিছু ফিক্সড ডিপোজিট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অনেকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা যখন পাসবুক আপডেট করতে বা লেনদেনের বিস্তারিত জানতে ব্যাংকের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন তাঁদের বলা হয় যে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে একটি অডিট বা নিরীক্ষা চলছে।
তাঁদের অভিযোগ, বারবার বিলম্বের কারণে তাঁরা নিজেদের অ্যাকাউন্টের নথিপত্র যাচাই করতে পারেননি এবং এর ফলে এই অনিয়মগুলো আগেভাগে ধরা সম্ভব হয়নি।
১৮ গ্রাহকের অভিযোগ
বিরোন্দির বাসিন্দা শ্রীচাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিটা-২ পুলিশ পিএনবি-র কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ গ্রাহক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
পাঁচ কর্মী সাময়িক বরখাস্ত
অভিযোগ পাওয়ার পর পিএনবি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ম্যানেজার সহ পাঁচ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং শাখার অন্যান্য কর্মীকেও সরিয়ে দিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং খোয়া যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।