অসমে বন্যায় মৃত ১০২

27

নিউজ ডেস্ক: অসমে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অসমের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে চলতি বন্যায় অসমে মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের। এখনও ৭ জেলার ১.১২ লক্ষ বাসিন্দা বন্যাক্রান্ত।
অসমের সাত জেলায় ২৫টি রাজস্ব চক্র ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৭টি আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন ৭৯৮২ মানুষ, বন্যায় ঘর বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ফিরতে পারছেন না।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলা। পাঁচটি রাজস্ব চক্রের ৪৭৬ গ্রাম এখনও জলের তলায়। চলতি বন্যায় প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে শিবসাগর জেলার ৫.৭৪ মানুষ বন্যাক্রান্ত।
শিবসাগরে তিনটি রাজস্ব চক্রের অবস্থা ভয়াবহ। ২৮,৩৫৬ হেক্টর কৃষিজমি ডুবে রয়েছে জলের তলায়। ৩৮০৪ বাড়ি বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া মৃত্যু হয়েছে প্রায় দুলক্ষ গৃহপালিত জীবজন্তুর। এর মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগি এবং ছোট জীবজন্তু যেমন ছাগল বা শুয়োর।
চরাইদেও জেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। তিনটি রাজস্ব চক্রের ১৯৩ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। দুলক্ষের বেশি মানুষ বন্যাক্রান্ত। এই জেলায় ২৪টি আশ্রয় শিবির এবং ২৫৩ ত্রাণবণ্টন কেন্দ্র এখনও চলছে। চরাইদেও জেলায় বন্যায় মারা গেছে ২২ জন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৫৬৯০ মানুষকে। জেলার ১৮,৪৪৯ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় রয়েছে। ৪৮৮ বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। আনুমানিক ২৩,৬০০ গৃহপালিত জীবজন্তুর মৃত্যু হয়েছে বন্যার জেরে।
যোরহাটের পাঁচটি রাজস্ব চক্রের ১০৪ গ্রামের ১.৬৬ লক্ষ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। এই জেলায় চলছে ৩৯টি আশ্রয়শিবির যেখানে রয়েছে ৯৬৫৯ মানুষ। এই জেলার সাত হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি জলের তলায় রয়েছে। চরাইদেও জেলায় বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
গোলাঘাট জেলায় ছয়টি রাজস্ব চক্রের ২৫৪ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। যার প্রভাব পড়েছে সরাসরি এক লক্ষের বেশি বাসিন্দার ওপর। এই জেলায় চলছে ৫০টি আশ্রয় শিবির, বর্তমানে যেখানে রয়েছেন ছয় হাজারের বেশি মানুষ। এই জেলায় বন্যার মৃতের সংখ্যা ৮, বাড়িঘর ও গৃহপালিত জীবজন্তুর ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে।
গোটা অসমে চলতি বন্যায় ২৭১৫ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত এবং জলের তলায় ছিল ৮৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি। বন্যার জলের তোড়ে ভেসে গেছে বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬টি সেতু এবং ১১০৮ রাস্তা।
আপৎকালীন সহায়তা হিসেবে অসম সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দিয়েছে ১৫ হাজার টাকা করে। এখন পর্যন্ত এই সহায়তা পেয়েছে ৬৪,৮৯১ পরিবার। আরও ৩১,২১২ পরিবারকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।