নিউজ ডেস্ক: ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার আগে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে জোরকদমে আসরে নেমেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য ডিএমকের সমর্থন জোগাড়ে সক্রিয় বিজেপি। এবং এজন্য সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলে সামান্য পরিবর্তন করে সব রাজ্যের আসন ৫০ শতাংশ করেই বৃদ্ধি হবে, একথা লিখতেও রাজি বিজেপি।
সংসদে ইতিমধ্যে ভাঙন ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা, আম আদমি পার্টিতে। দৌত্য চলছে শরদ পাওয়ারের এনসিপির সঙ্গে। গত এপ্রিলে সংসদে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশে ব্যর্থ হয়েছিল সরকার। ভোটাভুটির সময় উপস্থিত ৫২৮ সাংসদের মধ্যে বিল পাশ করাতে সরকারের দরকার ছিল ৩৫২ ভোট, কিন্তু পেয়েছিল ২৯৮ ভোট। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দরকার ৩৬২ ভোট। যদিও এই মুহূর্তে তিনটি আসন খালি রয়েছে।
এনডিএর সাংসদের সংখ্যা ২৯৪। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া সাংসদ ২০। উদ্ধব শিবসেনার ৬ সাংসদ এনডিএতে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২০। এর সঙ্গে ডিএমকের ২২ সাংসদ সরকারের পক্ষে ভোট দিলে সংখ্যা হবে ৩৪২। বিজেপির পক্ষে চেষ্টা চলছে শরদ পাওয়ারের এনসিপির ৯ সাংসদকে ভোটাভুটির সময় অনুপস্থিত রাখার। তাহলে বিজেপির পক্ষে বিল পাশ করানোর জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব।
এপ্রিলে যে বিলটি সংসদে আনা হয়েছিল তাতে বলা হয়েছিল ৫৪৩ থেকে লোকসভার সাংসদ হবে ৮১৬। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখে বলেছিলেন, সব রাজ্যের আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়বে। কিন্তু বিরোধীরা দাবি করেছিল যে বিলে সেকথা লেখা নেই। যদিও অমিত শাহ তখন বলেছিলেন, বিরোধীরা যদি সমহারে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধিতে রাজি হয় তাহলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে বিলে সেটা লিখে আনবেন। সেটা আর হয়নি।
কংগ্রেস সহ বিরোধীদের মত হল, বিজেপি এমনভাবে সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে যাতে হিন্দি বলয়ে ভালো ফল করলেই ক্ষমতায় ফিরতে পারে। তবে আসন্ন বাদল অধিবেশনে প্রথমেই সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল পেশ করা হবে না। সরকার প্রথমে ১৩০তম সংশোধনী বিল পেশ করবে। যে বিলর মূল বিষয় হল, ৫ বছরের বেশি কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে এমন অপরাধে যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী একটানা ৩০ দিন আটক থাকে তাহলে ৩১তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর পদ চলে যাবে।
এই বিল পাশ করাতে পারলেই বিজেপি আনবে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল বা সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল।
Prev Post