নিউজ ডেস্ক: দীপপুঞ্জের গর্ভে রয়েছে তেজস্ক্রিয়। যদি কোনও বিস্ফোরণ হয় তবে শেষ হয়ে যাবে বিস্তীর্ণ এলাকা। মরণকে সঙ্গী করেই কি জীবন কাটাতে হবে? ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে একাধিক পারমাণবিক পরীক্ষার স্মৃতি আজও বহন করছে প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে রয়েছে রুনিট ডোম (Runit Dome)। একটি বিশাল কংক্রিটের গম্বুজ। যার নিচে সংরক্ষিত রয়েছে হাজার-হাজার টন তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক বর্জ্য।
১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে আমেরিকা পারমাণবিক পরীক্ষার পরে দূষিত মাটি, ধ্বংসাবশেষ এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য একটি বিশাল গর্তে ফেলে তার উপর কংক্রিটের গম্বুজ নির্মাণ করে। তবে এই গম্বুজের নিচের অংশে কোনো কংক্রিটের ভিত নেই। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, ঝড় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি পারমাণবিক তেজস্ক্রিয় বেরিয়ে আসে! তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে গম্বুজের ক্ষতি হলে পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য, সামুদ্রিক প্রাণী এবং আশপাশের দ্বীপগুলিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, রুনিট ডোম নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চলছে। এখন পর্যন্ত তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বিপদের প্রমাণ না মিললেও, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুনিট ডোম কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি পারমাণবিক পরীক্ষার দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
পরিবেশ দূষণের দিকটা যদি দেখা যায় তাহলে প্রশান্ত মহাসাগরে এর প্রভাবে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, বিশেষ করে প্লুটোনিয়াম-২৩৯ (যা ক্যান্সারের কারণ) ডোম থেকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও সামুদ্রিক খাবারের চেইন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা বংশের পর বংশ ক্ষতির মুখে। বাড়ছে ক্যান্সারের প্রবণতা। এই দ্বীপটিকে এখনই বসবাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি উঠছে।