বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কয়লা-ভিত্তিক গ্যাস উৎপাদনে নজর কেন্দ্রের, বরাদ্দ ৩৭,৫০০ কোটি

6

১৪ মে, কলকাতা : দেশে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে এ বার আরও উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কয়লা-ভিত্তিক গ্যাস উৎপাদনে নজর কেন্দ্রের। বুধবার ৩৭,৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের জন্য ৩৭,৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩,০০০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টন কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলি স্থাপন করা হবে।’’

শিল্প-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কয়লা-ভিত্তিক গ্যাস উৎপাদনকে ‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ বলা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কয়লাকে সরাসরি না পুড়িয়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে বাষ্প এবং সীমিত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে প্রক্রিয়াকরণ করে ‘সিনগ্যাস’ বা ‘সিন্থেসিস গ্যাস’ উৎপাদন করা হয়। এই প্রক্রিয়া মিথানল, সার, হাইড্রোজেন এবং রাসায়নিক উৎপাদনে সহায়তা করে। এর ফলে আমদানিকৃত তেল, মিথানল এবং অ্যামোনিয়ার উপর নির্ভরতা কমে। কয়লাকে গ্যাসীয় জ্বালানিতে রূপান্তরের এই আধুনিক পদ্ধতি চালু করলে দেশের জ্বালানিক্ষেত্রে আমদানি-নির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে দেশে তেল ও গ্যাসের আমদানি কম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ ছুঁয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বুধবার বলেন, ‘‘কোল গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প চালুর লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টন কয়লা গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা অর্জন করা।’’ দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫৫ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয় কয়লা। বিশ্বে কয়লার দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ও ভোক্তা হিসেবে ভারতের জ্বালানি চাহিদা বাড়তে থাকায় কয়লার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্র। আর মজুত বিপুল কয়লা ভাণ্ডারের সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যেই ‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ প্রকল্পে এ বার নজর কেন্দ্রের।