উমেশ চেতিয়া, ডিমৌ: গবাদি পশুর বিক্রি এবং পরিবহণের ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে ঈদের আগে অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজান অসমের ডিমৌয়ে গুরুতর বিপদের মুখে পড়েছে গরু ব্যবসায়ী এবং সাধারণ বিক্রেতারা। উজান অসমের বিখ্যাত পশুবাজার ডিমৌয়ের রাজমাই পশু বাজারে বকরি ঈদেও ক্রেতা নেই। ক্রেতার অভাবে হতাশ গরু বিক্রেতারা। গো-সংরক্ষণ আইনের জেরে গবাদি পশু বিক্রি ও পরিবহণে নিষেধাজ্ঞার জেরে বিপদে পড়েছে গো-পালক এবং গরু ব্যবসায়ীরা।
২৮ মে ঈদ-উল-জোহা অর্থাৎ বকরি ঈদ। এই ঈদ উৎসবে পশু কুরবানি দেওয়ার রীতি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। কিন্তু গবাদি পশু হত্যার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে উঠেছে। অসমে সরকার আইন করে গবাদি পশু বিক্রি ও পরিবহণে কিছু নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছে। অন্যদিকে, হিন্দু, শিখ, জৈন ধর্মাবলম্বীরা গরুকে পুজো করেন। গরু নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রবল আবেগ রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে অন্যদের আবেগকে মর্যাদা দিতে অনেক জায়গায় এবারে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকেও গবাদি পশুর কুরবানিতে আপত্তি উঠেছে। বহু জায়গায় মুসলিমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গরু কুরবানি দেবেন না তাঁরা। আর তার জেরে হঠাৎ করেই গরুর বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মাঝখানে মাত্র কদিন। তারপরই বকরি ঈদ। ব্যবসায়ীরা তো বটেই, সাধারণ গো-পালক এবং গ্রামের কৃষকরাও গরু বিক্রি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। উজান অসমের ডিমৌয়ে রাজমাই পশু বাজারে ক্রেতা নেই। বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে নিয়ে আসা হাজার হাজার গরু কেউ কিনছে না। ফলে, মাথায় হাত বিক্রেতাদের। বহু কৃষক পরিবারে বাড়তি আয়ের উপায় পোষ্য গরু বিক্রি। কিন্তু, একদিকে আইনি বাধা, অন্যদিকে গরু কিনতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অনীহায় বেকায়দায় পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। অনেককেই বাধ্য হয়ে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে গরু। ফলে, গুরুতর আর্থিক সঙ্কটের মুখে দিশাহারা মানুষ। ষাঁড় এবং চাষের কাজে ব্যবহারের অযোগ্য গরু নিয়ে কী করবেন কৃষকরা। সব মিলিয়ে জটিল হয়ে উঠেছে সমস্যা।