নিউজ ডেস্ক: ডিটেক্ট ( চিহ্নিত করা), ডিলিট ( মুছে দেওয়া) ও ডিপোর্ট (ফেরত পাঠানো)। পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে অন্যতম ছিল এই নির্দেশ। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নির্বাচনী প্রচারে শুধু বাংলার বিজেপি নেতারাই নয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী বারবার সরব হয়েছেন। বাংলায় তৃণমূল সরকারের পরাজয়ের পর এবার বিজেপি সরকার রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে নির্দেশ দিল ‘হোল্ডিং সেন্টার’ করতে। নজরে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গারা।

এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে বেআইনিভাবে রাজ্যে আসা বিদেশি সন্দেহে ধৃত। অথবা অনুপ্রবেশকারীর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্তদের রাখা হবে হোল্ডিং সেন্টারে। সরকারের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এই দেশে অবৈধভাবে থাকার জন্য আটক করা বাংলাদেশি/রোহিঙ্গাদের নির্বাসনের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এই প্রসঙ্গে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উল্লিখিত নির্দেশিকা অনুসারে আটক হওয়া বিদেশিদের এবং নির্বাসন/স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ/উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’
২ বছর আগে মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কথা বলা হয়েছিল। কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন বলে মনে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে পারে। এক মাসের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ আটকে রাখা যাবে সন্দেবভাজনকে। ৩০ দিনের মধ্যে ধৃতের নথি যাচাই করা হবে। ধৃত ভারতীয় কিনা তা যাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর পদমর্যাদার অধিকারিকের।
কাদের ডিপোর্ট করা হবে?
কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন ২০২৪ -এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা CAA বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় পড়েন, তাঁদের বৈধ নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। যাঁরা ওই আইনের আওতায় পড়েন না অর্থাৎ বাংলাদেশে যাঁরা সংখ্যাগুরু, তাঁদের ডিপোর্ট করা হবে।