সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সুখবর, সব সিনেমা হলে প্রতিদিন ৫ শো

30

নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার নতুন ছবির মুক্তি। তার কয়েকটি শুক্রবার আগে থেকেই ছবির টিজার, প্রোমো, প্রিমিয়ার আরও কত কি! প্রিয় নায়ক-নায়িকা বা পরিচালকের বহুচর্চিত, ব্যয়বহুল ছবি মুক্তি ঘিরে উন্মাদনা চরমে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মুক্তির আগেই কোন ছবি কী রেকর্ড ভেঙে ফেলল, দেশে-বিদেশে কোথায় কী করল, নানাবিধ বিষয় চর্চা উঠে আসে। অবশেষে ছবি মুক্তির দিন উত্তেজনা টগবগ করে ফুটতে থাকা সিনেমা অনুরাগীদের মোহভঙ্গ হয়। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রথমদিন ছবি দেখার সৌভাগ্য হয় না অনেকেরই।

সেই দিন এবার শেষ হতে চলেছে। এতদিন কোনও সিনেমা হলে প্রতিদিন তিনটি বা চারটি শো হত। সরকারি নিয়ম মেনেই তা হত। তবে এবার সপ্তাহে সাতদিনই পাঁচটি করে শো চালাতে পারবেন হলমালিকরা। যে কোনও ছবি মুক্তির পর সাত দিন বাধ্যতামূলকভাবে সপ্তাহে সাতদিন টি করে শো চালাতে হবে। এ ছাড়া ছুটির দিন বা স্থানীয় কোনও উৎসব থাকলেও দিনে পাঁচটি করে শো চালানো যাবে।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বের তুলনায় বরাবরই এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণের সিনেমা শিল্প। সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক দল তৈরি করেই ক্ষমতার তখতে বসেছেন সুপারস্টার থলাপতি বিজয়। দিন কয়েক আগেই তামিলনাড়ু সিনেমার বেশ কয়েকজন সিনেমার অগ্রগতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই দাবি তোলা হয় প্রতিটি সিনেমা হলে সপ্তাহে সাতদিনই পাঁচটি করে শো দেখানো হোক।

সিনেমার কলাকুশলীদের সেই দাবিকে মান্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। প্রায় পত্রপাঠ তামিলনাড়ু সিনেমা নিয়ন্ত্রণ নীতির সংশোধন করে নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, সপ্তাহে সাতদিনই পাঁচটি করে শো দেখানো বাধ্যতামূলক।

এই নির্দেশিকায় এক ঢিলে বেশ কয়েকটি পাখি মেরেছেন বিজয়। তামিল অস্মিতায় শান দেওয়ার পাশাপাশি সিনেমা শিল্পের উন্নয়নে অন্যতম পদক্ষেপ। অনেকে আবার এর সঙ্গে জুড়ে দিতে চাইছেন সম্প্রতি সেখানে বন্দেমাতরম বিতর্কের বিষয়টি। মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং সেই সূত্রে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার একটা অভিযোগও উঠেছিল। তামিল সিনেমা নিয়ে বিজয়ের এই পদক্ষেপে সেটা অনেকটাই প্রশমিত হল বলে অনেকেই মনে করছেন।

ভোট পার, সরকার গঠন হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ করে তামিল সিনেমার উন্নতিতে দলমত নির্বিশেষে অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বিজয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রবীণ-নবীন অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকরা। তাঁদের ভাবনাকে কদর করেছেন তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীও। এ ছবি কবে হবে অন্য রাজ্যে? অধীর অপেক্ষা!