লাখ লাখের কাটমানি, টাকা চেয়ে বিডিও অফিসে শয়ে শয়ে মানুষ

14

সুমিত ঘোষ, মালদহ: কথায় বলে ফেলো কড়ি, মাখো তেল। তৃণমূল জমানায় ছোট থেকে বড় নেতাদের রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, তা নজির এখন প্রায় প্রতিদিনই জেলায় জেলায় সামনে আসছে। তৃণমূল নেতাদের কাটমানির কাটা চেয়ে প্রশাসনিক অফিসগুলিতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, বিক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। এই তালিকায় নতুন সংযোজন মালদহের মানিকচকের বিডিও অফিস।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিডিও অফিসের সামনে শয়ে শয়ে মানুষের ভিড়। তাঁদের একটাই দাবি, টাকা ফেরত চাই। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষগুলির অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হল বিডিও অফিসের কর্মীদের। অভিযোগ, মানিকচক ব্লকের চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান অর্চনা মণ্ডল বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কয়েকশো মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন। ন্যূনতম ২ হাজার টাকা থেকে কারোর কারোর কাছে ৫-১০ হাজার টাকাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই কাজে প্রধানের স্বামী মূল মাথা।

বিডিও অফিসে এদিন ভিড় জমানো এক অভিযোগকারী মৃদুলা মণ্ডলের বক্তব্য, ‘টাকা দিলে ঘর আসবে, না হলে আসবে না। সেজন্য আমরা টাকা দিয়েছিলাম। এরা এখন আর কী করবে? এখন আমরা টাকা ফেরত চাইছি।’

আরেক আন্দোলনকারী মিঠুন মণ্ডলের অভিযোগ, ‘বাংলার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমাদের মাথাপিছু ২ হাজার টাকা করে নিয়েছে। প্রধান অর্চনা মণ্ডল ও তাঁর স্বামী বিমল মণ্ডল এই টাকা নিয়েছে। শুনানির জন্য আমার ২০০ থেকে ২৫০ জন এসেছি। প্রধান বলছে টাকা ফিরিয়ে দিতে পারব না। যা করার করে নাও। আমরা বলেছি আমাদের ঘর লাগবে না। টাকা ফেরত দাও। গরিবের সঙ্গে যাতে আর প্রতারণা না করতে পারে সেজন্য আমরা প্রধানের কঠোর শাস্তি চাইছি।’

গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন বিডিও সৌরভ কুমার মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রধান বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবাসের নাম করে টাকা তুলেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছি। অভিযোগকারীদের সকলকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল।’

মানিকচকের বিডিও এদিন আরও জানিয়েছেন, ‘অভিযোগকারীরা সমস্ত কাগজপত্র ও প্রমাণ জমা দিয়েছেন। আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপ করব। নতুন সরকার দুর্নীতি ও আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’