নিউজ ডেস্ক :শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশেই দ্রুত বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস। এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব গেরুয়া শিবির। তবে তাদের থেকেও বেশি সরব আরএসএস। কী পরিস্থিতিতে এই বদল হচ্ছে? কেনই-বা হচ্ছে? এই বদলের জেরে আগামী দিনে জনমানসে কী প্রভাব পড়বে? নাকি আশঙ্কা সবই অমূলক? এসব খতিয়ে দেখতেই একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় সরকার।
গত বছর পনেরোই অগাস্টের ভাষণেই দেশে জনবিন্যাসের বদল নিয়ে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে মঙ্গলবার এই কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কমিটি গঠনের ঘোষণা করে অমিত শাহ বলেন, ‘অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে অপ্রত্যাশিত জনবিন্যাসের বদল বর্তমানে এবং আগামীতে দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকর। কমিটির সদস্যরা হলেন প্রাক্তন আইএএস দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শমিকা রবি। এই কমিটিতে থাকবেন সেনসাস কমিশনার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিদেশি সংক্রান্ত বিষয়ের সচিব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে গোটা দেশেই জনবিন্যাসের বদলে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ সহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। ঝুঁকির এই জনবিন্যাস বদলের হাত থেকে কীভাবে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে সুসংহত একটি পরিকল্পনা করবে এই কমিটি।
অমিত এদিন মন্তব্য করেন, ‘জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি শুধু দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গেই জড়িত নয়, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক গঠন এবং আদিবাসীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।’
দেশে জনবিন্যাসের দ্রুত বদল নিয়ে নানা সময়ে মূলত গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন দাবি এবং সেই লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আগেই বিতর্ক হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই কমিটি গঠন নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্কের অবকাশ তৈরি হল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মত। তাঁরা মনে করেছেন, মূলত দেশের সীমান্ত এলাকা এবং সীমান্তের রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার আলোচনা ফের গতি পাবে।