শাহের নজরে ‘হারামি নালা’

10

নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনের গুজরাট সফরে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই সফরে একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। কিন্তু এর মধ্যে একটি কর্মসূচি নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। সেটি হল অমিত শাহের ‘হারামি নালা’ (HARAMI NALA) পরিদর্শন।

কিন্তু কী এই ‘হারামি নালা’? ভূ-কৌশলগত দিক থেকে এই ‘হারামি নালা’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কেনই বা ভারত ‘হারামি নালা’ নিয়ে এত তৎপর?

নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সীমান্তের রাজ্যগুলিতে বিশেষ নজর দিতে শুরু করেছে ভারত সরকার। দেশের পশ্চিমে পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা রাজ্যগুলিতে যেমন তৎপরতা রয়েছে তেমনই পূর্বেও বাংলা, ত্রিপুরা সহ বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাজ্যগুলিতেও সমান নজর রয়েছে। এই লক্ষ্যেই পশ্চিমে রাজস্থান, গুজরাট এবং পূর্বে ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে সফর করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই সফরে শুক্রবার গুজরাটের ‘হারামি নালা’ পরিদর্শন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সীমান্ত চৌকি ‘হারামি নালা’ গুজরাটের কচ্ছ জেলায় ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে জলাভূমিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলায় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)। ‘হারামি নালা’ ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রাকৃতিক জলধারা। এটি পাকিস্তান থেকে প্রবাহিত হয়ে কচ্ছের রণে এসে মিশেছে। এই ‘হারামি নালা’ স্থানীয়দের কাছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ জলপথ নামে পরিচিত। এই ডাক নামের পিছনেও রয়েছে বিশেষ কারণ।

গুজরাটের ‘ভিঘাকোট’ সেক্টরের দক্ষিণে এবং বিতর্কিত ‘স্যার ক্রিক’ অঞ্চলের কাছেই ‘হারামি নালা’ যেন সাক্ষাৎ যম। এখানকার আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন। গরমে তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা কখনও কখনও তারও বেশি। এখানে মারাত্মকভাবে জোয়ার ভাটা খেলে। গোটা এলাকাটাই কাদার আবরণে ঢাকা। সেখানে চোরাবালিই বেশি। স্বাভাবিকভাবেই এই জলাভূমিতে পায়ে হেঁটে নজরদারি চালানো একরকম অসম্ভব।

‘হারামি নালা’র এই প্রতিকূলতাকেই হাতিয়ার করে চোরাকারবারিরা। এমনকি অনুপ্রবেশের স্বর্গরাজ্য। ‘হারামি নালা’র কাছে আকছাড় দেখা যায় সন্দেহজনক মেছো নৌকা। এই নৌকাগুলির মাধ্যমেই চলে অবৈধ সীমান্ত পারাপার। ফলে ‘হারামি নালা’ যেন নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে বিভীষিকা।

মূলত ‘হারামি নালা’র জলাভূমি সামুদ্রিক প্রাণিসম্পদ, বিশেষ করে চিংড়িতে সমৃদ্ধ। অরক্ষিত এই সম্পদ লুঠে নিতে পাকিস্তানি জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারতীয় সীমানায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। স্বাভাবিকভাবেই ভারতের নিরাপত্তায় একটি বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুর্গম ভৌগলিক পরিবেশ সত্বেও সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার একাধিক পদক্ষেপ করছে ভারত সরকার। গোটা এলাকাটাই আধুনিক ক্যামেরায় মুড়ে ফেলার কাজ চলছে জোরকদমে। এখানে PTZ বা ‘প্যান, টিল্ট এবং জুম’ ক্যামেরার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। গোটা সিস্টেমটিই ২৪ ঘণ্টা রিয়েল-টাইম একটি মনিটরিং রুমের সঙ্গে সংযুক্ত।

‘হারামি নালা’য় নজরদারিও চালায় BSF-এর একটি বিশেষ বাহিনী। এই বাহিনীর নাম ‘ক্রিক ক্রোকোডাইল কমান্ডো’। দিনে এবং রাতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো বিশেষ দ্রুতগামী বোটে নজরদারি চালায় এই বাহিনী। এছাড়াও সারা বছর এই এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

‘হারামি নালা’য় আরও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি ব্যবহার এবং তার পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কিছু শেষ হয়েছে এবং কিছু কাজ এখনও বাকি। এই পুরো ব্যবস্থাটাই শুক্রবার সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ