নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের মতোই নেপালের সঙ্গেও ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ১৮১৬ সালে সাগাওলি চুক্তি অনুযায়ী এই সীমান্ত নির্ধারণ হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মতোই ভারত-নেপাল সীমান্তের বহু জায়গাই ফাঁকা। সেখানে প্রথাগতভাবে কোনও পাকাপাকি সীমানা প্রাচীর বা অন্য কিছু নেই। নো-ম্যানস ল্যান্ডে দুদেশের মানুষেরই উপস্থিতি রয়েছে। এপর্যন্ত ঠিই ছিল। কিন্তু নেপালের সংসদে সম্প্রতি সেদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহর একটি মন্তব্য ঘিরে ঘরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
১১ মে নেপালের সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন শাহ বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জানতে পেরেছি এবং আপনারা জেনে বিস্তিত হবেন, শুধুমাত্র ভারতই নেপালের জমি জবরদখল করেনি, নেপালও বহু জায়গায় ভারতের জমি জবরদখল করেছে। বন্ধুত্বের আবহে দু-দেশকেই একসঙ্গে বসে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করে এই বিষয়টির সমাধান করা উচিত।’
যদিও প্রধানমন্ত্রী শাহ নির্দিষ্ট করে বলেননি নেপাল কোথায় ভারতের জমি জবরদখল করে রেখেছে। এমনকি নেপালের সংসদদের বিষয়টি নিয়ে চিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সংসদে দাঁড়িয়ে অন্য দেশের জমি জবরদখল করে রাখার বিষয়ে কার্যত স্বীকারোক্তি করায় দেশেই বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ। নেপালি কংগ্রেস এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে অবিলম্বে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ দিন অন্যথায় মন্তব্য প্রত্যাহার করুন।
তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখনও সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি নয়াদিল্লি। কিন্তু গত মাসে লিপুলেখ পাস দিয়ে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা নিয়ে নেপালের আপত্তিকে উড়িয়ে দিয়েছিল। লিপুলেখ পাস তাদের মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করে নেপাল। ভারত জবাব দেয়, ‘এটি একতরফাভাবে কৃত্রিম একটি সম্প্রসারণ এবং নেপালের দাবি ভারতের কাছে সমর্থনযোগ্য নয়।’ ভারত এও জানায়, বিতর্কিত এলাকা উত্তরাখণ্ডের অংশ এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান জরুরি। তবে নেপাল ভারতের কোনও জমি জবরদখল করে রেখেছে এমন কোনও অভিযোগ এপর্যন্তু নয়াদিল্লির তরফে করা হয়নি।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী যে দাবিই করুন না কেন, ভারতে নিযুক্ত নেপালের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতদের কেউই বলেন শাহর দাবিকে মান্যতা দিতে নারাজ। তারা জানিয়েছেন, নেপাল ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত সমস্যার প্রায় ৯৭ শতাংশেরই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। কিছু বর্ডার পিলার খুঁজে না পাওয়ায় ভারত ও নেপাল উভয় দেশেরই কিছু মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত এলাকায় বসবাস করছেন। তবে নির্দিষ্ট করে ভারতের জমি জবরদখল করে রাখার কোনও সরকারি তথ্য নেই।
এই অবস্থায় ঘরে বাইরে চাপের মুখে পড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় নেপাল সরকার। বিবৃতি দিয়ে নেপালের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কার্জকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। নেপালের কিছু মানুষ নো-ম্যানস জোনে চাষাবাদ করেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ সেকথাই বলতে চেয়েছেন।’