নিউজ ডেস্ক: ফের পথে বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৫ বছর পর ফের কলকাতার রাজপথে সরকারে বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব তিনি। তাঁর দাবি, ” আমি কারও সুদিনে না-হোক, দুর্দিনে আছি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” বিজেপি ছাড়া সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল। বিজেপির যাঁরা এখন অপবাদ চুরির কথা বলেছেন, তাঁদের পাশেও একদিন ছিলাম।” বিধানসভার ফল প্রকাশের ভোটের পর থেকে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সুর চড়িয়ে বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি,”জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে। “
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার তৃণমূলকে ভাঙার চক্রান্ত করছে। বিজেপির সেই অপচেষ্টা বানচাল করে দেবেন দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর অভিযোগ, ” তৃণমূলের বিধায়ক, পুরপ্রতিনিধি ও দলের নেতাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”
৩০ মে সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চ থেকে সেই প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “ওটা গলির মধ্যে ছিল। হেলমেট না-দিলে পাথরটা ওর মাথায় লাগত।” তার পরেই হাসপাতালের ‘অসহযোগিতা’ নিয়ে সরব হন মমতা। তাঁর দাবি, “যখন সিরিয়াস অবস্থায় রোগী নিয়ে গেলাম তখন সিইও-র থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা বলছে। পুলিশ নার্সিং হোমকে থ্রেট করছে। পরে ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করল। তখন হাসপাতালের সিইও আমার কাছে এলেন। শোভন চট্টোপাধ্যায়ও ছিল আমার সঙ্গে। আমাদের বললেন, মাফ করবেন। আর চাপ নিতে পারছি না। ভয় দেখানো হচ্ছে।”
রানি রাসমনি রোডে ধর্নার অনুমতি না দেওয়ায় কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমাদের এখানে ধর্নায় মাইকের অনুমতি দেওয়া হয়নি। হ্যান্ড মাইক নিয়ে বলতে হচ্ছে। এ ভাবে আমাকে আটকাতে পারবে না। যেখানে পারব বসে পড়ব। বাবা সাহেব অম্বে়ডকরের মূর্তিতে মালা দিতে কি আমাকে আটকাতে পেরেছে না জানতে পেরেছে? সংবিধান নিয়ে গিয়েছিলাম। মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শপথ নিলাম— এই অত্যাচার যত দিন চলছে, তত দিন মোকাবিলা করব। করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে।” তাঁর আরও অভিযোগ, “তাঁকে মারধর করা হয়েছে। ভোট লুট করেছে বিজেপি হয়েছে।”