প্রায় দুশো বছর পর খোঁজ মিলল বিরল ব্লু বেরির

18

নিউজ ডেস্ক: প্রায় দুশো বছর পর তাকে খুঁজে পাওয়া গেল! ১৮৮ বছর আগে শেষবার খোঁজ মিলেছিল তার। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা শুধু জানতেন উনবিংশ শতাব্দীতে তার সাক্ষাৎ মিলেছিল। ব্যস। কিন্তু হারিয়ে গেল কোথায়! কারও জানা ছিল না। তবে কি সে চিরতরে হারিয়েই গেছে!
অবশেষে ১৮৮ বছর পর অরুণাচল প্রদেশের দুর্গম জঙ্গলে ফের দেখা গেল তাকে, প্রায় কিংবদন্তি হয়ে ওঠা হিমালয়ান ব্লু বেরি। ঘটনাটি ভারতের উদ্ভিদবিদ্যার ক্ষেত্রে এক বিরাট খবর। হিমালয়ান ব্লু বেরির প্রকৃত নাম ভ্যাক্সিনিয়াম পিলিফেরাম। সাধারণ ব্লু বেরির সম্পর্কিত একটি প্রজডাতি। তবে, এটি বিরল এবং বিলুপ্তপ্রায় বলে চিহ্নিত। ১৮৩৬ সাল থেকে এই বিরল উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের নজরে পড়েনি। সকলে যখন ভেবেই নিয়েছিল উদ্ভিদটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তখন এত বছর বাদে ফের দেখা গেল সেই বিরল উদ্ভিদ। অরুণাচল প্রদেশের চাংলাং জেলার বিজয়নগর অঞ্চলের গভীর জঙ্গলে দেখা গেছে হিমালয়ান ব্লু বেরির ফলন্ত গাছ।

হিমালয়ান ব্লু বেরি আসলে কী?

সাধারণ ব্লু বেরির বুনো সংস্করণ বলা যায় হিমালয়ান ব্লু বেরিকে। উদ্ভিদটি বৃহত্তর এরিকাসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের মধ্যে রয়েছে ক্রেনবেরিজ, বিলবেরিজ এবং রডোডেনড্রনও! কিন্তু প্রচলিত ব্লু বেরি যেভাবে ব্যবহারে আপনি অভ্যস্ত এই হিমালয়ান ব্লু বেরি নিয়ে সেরকম ভাবার অবকাশ নেই। এই উদ্ভিদটি লতানে এবং কোনও অবলম্বন পেয়ে জড়িয়ে উপরে ওঠে। লম্বায় সাডে মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে, অন্য বেরির মতো মাটি ছুঁয়ে থাকা নয় এটি।
গাছে নরম, হাল্কা সবুজ, ঘণ্টার আকৃতির ফুল ফোটে। ফুলগুলো শাখা থেকে নীচের দিকে ঝুলে থাকে। পাতার প্রান্তগুলো কখনও কখনও লালচে হয়। ফলগুলো হয় গাঢ় পার্পল রঙের। মোমের মতো একটা আবরণে ঢেকে থাকে ফলের উপরি ত্বক। দেখে মনে হয় যেন আঁকা ছবির ক্যানভাস থেকে বেরিয়ে এসেছে।

হিমালয়ান ব্লু বেরির স্বাদ কেমন?

না, হিমালয়ান ব্লু বেরির স্বাদ কেমন এখনও নিশ্চিত করে কেউ জানাননি। এনিয়ে বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা এখনও হয়নি। ফলে, কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে,ব্লু বেরি এবং ক্রেনবেরির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এর স্বাদ হতে পারে টক-মিষ্টি। গন্ধে সেরকমই মনে হয়। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বেরি খেয়ে আসছেন। তাঁরা মনে করেন, এটি সুস্বাদু এবং খাওয়ার পক্ষে নিরাপদ। এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, এই ফল প্রাকৃতিক শক্তি বর্ধক। অনেকে একে এমনকি ‘সঞ্জীবনী বুটি’ বলেও উল্লেখ করেন।

হিমালয়ান ব্লু বেরি কি স্বাস্থ্যকর?

আজও হিমালয়ান ব্লু বেরির পুষ্টিগুণ বা ওষধিগুণ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হয়নি। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বড় কিছু দাবি করার কথাও কেউ ভাবছেন না। তবে, হিমালয়ান ব্লু বেরির জ্ঞাতি প্রজাতির ফলগুলো মূল্যবান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এমন সব উপাদান এসব ফলে রয়েছে যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, হার্টের স্বাস্থ্যরক্ষায় সহায়ক এবং দেহকোষের ক্ষয়রোধ করে। তবে, এখন পর্যন্ত হিমালয়ান ব্লু বেরি নিয়ে এসব বলার সময় আসেনি।