তৃণমূলের সাংসদরাও ঋতব্রতদের পথে? ২০ সাংসদ নাকি বিজেপির সংস্পর্শে!

31

নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিনই তৃণমূল কংগ্রেসের একটি করে অঙ্গ বিকল হচ্ছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুধবার পরিষদীয় দলের দখল নিয়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত এবং বিদ্রোহী বিধায়করা। এবার কি সেই পথেই তৃণমূলের সাংসদরাও হাঁটতে চলেছেন? সময় যত যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্র মারফত সেই খবরের সত্যতাই জোরালো হচ্ছে।

দিল্লি রাজনৈতিক মহলের খবর, তৃণমূলে আরও একটি বড়সড় আলোড়ন অপেক্ষা করছে। এই মুহূর্তে তৃণমূল সাংসদ সংখ্যার নিরিখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। তাদের ৪১ জন সাংসদ রয়েছে। লোকসভায় ২৮ জন এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন।

আগামী দিনে এই সাংসদদের একটি বৃহৎ অংশই পরিষদীয় দলের মতো পদক্ষেপ করতে চলেছে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গে পরিষদীয় দলের বিদ্রোহ ও বিরোধী দলনেতা পরিবর্তন এবং সেইসঙ্গে কলকাতা মেয়র পদে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা সেই লক্ষ্যে অক্সিজেন যোগ করেছে।

সূত্রের খবর, ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এই মুহূর্তে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দল বদলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেই প্রক্রিয়া চলছে বলেও খবর। স্বাভাবিকভাবেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তৃণমূলের সাংসদরাও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপেক্ষা করেই নতুন কোনও পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ করেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

মহারাষ্ট্রে এনসিপিতে ভাঙনের পর শরদ পাওয়ার দল এবং দলের প্রতীক দুই-ই হারিয়েছেন। এবার মমতার ক্ষেত্রেও কি সেটাই হতে চলেছে? ইতিমধ্যেই পরিষদীয় দলে মমতা কর্তৃত্ব খর্ব হয়েছে, সংসদীয় দল সেই পথ অনুসরণ করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থাও শরদ পাওয়ারের মতোই হবে, তা নিশ্চিত। আপাতত এই পরিস্থিতিতে কীভাবে দল এবং প্রতীক বাঁচানো যায়, সেটাই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

এমনই এক আবহে আগামী ৮ জুন দিল্লিতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝে আর তিন দিন। এর মধ্যে তৃণমূলের অন্দরে ধ্বংসাত্মক ঢেউ কীরূপ নেয় সেদিকে তাকিয়ে রাজনীতিতে আগ্রহীরা।