দিল্লির অধ্যাপিকা খুনের কিনারা করে ফেলল পুলিশ, খুনের ছক বাংলায় বসে!

45

নিউজ ডেস্ক: দিল্লির অধ্যাপিকা খুনের মাস্টারমাইন্ড বাংলার! পুলিশি তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু তাই নয়, বর্ধমান থেকে সন্তান-সহ দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন বর্ধমানের বাসিন্দা দম্পতি। অভিযোগ, সেখানেই অধ্যাপিকাকে খুন করে চম্পট দেয় তাঁরা। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে দম্পতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুধারা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতা পালের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। বোনকে ফোনে না পেয়ে সেদিন ফ্ল্যাটে পৌঁছে গিয়েছিলেন দেবস্মিতার দিদি দেবারতি। পুলিশকেও তিনিই খবর দেন। এরপর থেকেই আততায়ীকে চিহ্নিত করে একাধিক সূত্র খুঁজছিলেন তদন্তকারীরা। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে বর্ধমানের দম্পতিকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাঁদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত শিবাজি কলেজে পড়াতেন দেবস্মিতা। ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর দিল্লিতে একাই থাকতেন তিনি। জানা গিয়েছে, তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে বর্ধমানে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সেই বাড়িতে ভাড়া থাকেন অভিযুক্ত দম্পতি। বেশ কয়েকবার তাঁদের উঠে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন দেবস্মিতা। কিন্তু সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল অভিযুক্তরা, দাবি করা হয়েছে পুলিশ সূত্রে। সেই জন্যই দেবস্মিতাকে খুনের ছক কষে ফেলে তারা।

তদন্ত শুরু করে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয় দেখেন তদন্তকারীরা। ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়। সেখান থেকে আরও স্ক্রিনিং করে পুলিশের সন্দেহভাজনের তালিকায় চলে আসে ১৩ জন। পুলিশের নজরে ছিলেন মহিলার প্রাক্তন স্বামীও। চার দলে ভাগ হয়ে পুলিশ চার রাজ্যে তল্লাশি চালায়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বহু মানুষকে। অবশেষে রবিবার বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হয় দম্পতি।

পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে এই দম্পতিকেও দেখা যায়। দেখা যায়, এক দম্পতি মুখে মাস্ক পরে সিঁড়ি বেয়ে সাততলায় দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে ঢোকে। আধ ঘণ্টা পর তারা পোশাক বদলে বেরিয়েও আসে। এরপর একটি গাড়িতে করে চম্পট দেয় তারা। পুলিশ প্রথমে ওই গাড়ির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। সেই চালকের থেকেও মিলেছিল কিছু সূত্র।

প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা মনে করেন, এই খুনের পিছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। সামান্য চুরি বা ডাকাতি এই খুনের কারণ নয়। কারণ দেবস্মিতার মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। এ ছাড়া, হাতের শিরাও কাটা অবস্থায় ছিল। তবে টাকাপয়সা বা গয়নাগাটি কিছুই চুরি যায়নি। পুলিশ তখনই অনুমান করেছিল, খুনের পিছনে রয়েছে ব্যক্তিগত আক্রোশ।