পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: চলতি সপ্তাহে কালীঘাট তৃণমূলের তহবিলের কোষাধ্যক্ষ এবং প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে তলব করল ইডি। শুভাশিস চক্রবর্তী ছিলেন দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ‘সাইনিং অথরিটি’। দলের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে সিজিও দফতরে তাঁকে যেতে বলা হয়েছে।
এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণে দলের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে আইনি মামলা চলছে কলকাতা হাই কোর্টে। সেই মামলায় দলের ১৬৪ কোটি টাকা গরমিল পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ইডি তলবে তিনি যাবেন কিনা আলোচনা করবেন দলের সঙ্গে ।
শুভাশিস চক্রবর্তীর আগে দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন ব্যাংককে চিঠি লিখে। অরূপ বিশ্বাস ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব তুলে দেন। ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ আবেদন নিয়ে পালটা হাই কোর্টে মামলা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। আপাতত দলের তিনটি অ্যাকাউন্টের সইয়ের দায়িত্বে শুভাশিস চক্রবর্তী। আর তাই তাঁকেই সরাসরি ইডি তলব করল বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, শুভাশিস চক্রবর্তী ইডির কাছে হাজিরা দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন।
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল তৃণমূল। দ্বিতীয় শিবিরেই অধিকাংশ বিধায়ক – ৬৮ জন। বাকিরা কালীঘাট শিবিরে। এই অবস্থায় দলের প্রতীক ও তহবিলের মালিকানা কারা পাবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। ইডিও আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে।