‘পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীর সঙ্গে কেউ থাকতে চায় না’, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে মন্তব্য DMK-র

14

নিউজ ডেস্ক: সোমবার ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক হবে দিল্লিতে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির পর সেই বৈঠকে থাকছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। থাকার কথা তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তামিলনাড়ুতে এবার পরাজিত ডিএমকে ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে যেতে রাজি নয়। এমনকি কংগ্রেসের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনও জোটেই থাকতে রাজি নয় এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে।

তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের সরকার ছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে টিভিকে-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেখানে সরকারের সঙ্গী কংগ্রেস। ডিএমকে-র বর্ষীয়ান এক নেতা হাত শিবিরকে ‘ব্যাভিচারি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর তীব্র খোঁচা দলবদলুদের সঙ্গে কখনওই ফের স্বাগত জানাবে না ডিএমকে। তামিলনাড়ুর DMK-র সঙ্গে জোট বেঁধে ২৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। জেতে ৫টি আসনে। তবে সেই জোট ছেড়ে বেরিয়ে TVK-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২টি মন্ত্রিত্বও পেয়েছ হাত শিবির। DMK-র তরফে কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে বেইমানি এবং বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিজেপির সঙ্গেও কোনও দিন জোট করবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন ডিএমকে বরিষ্ঠ নেতা আর এস ভারতী।

একদিকে, এই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের আবহেই ৮ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় ও ক্ষমতাচ্যুতির পর জাতীয় স্তরে অ-বিজেপি দলগুলির এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে বঙ্গে দলের ঐতিহাসিক ভাঙন ও বিজেপির তীক্ষ্ণ বাণ, আর অন্যদিকে জাতীয় স্তরে জোটের অন্দরে ফাটল সব মিলিয়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক এখন জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ঘাসফুল শিবিরের কপালের ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে কারণ অন্দরের খবর তৃণমূলের ২৮ লোকসভার সাংসদের মধ্যে অনেকেই বিজেপির দিকে পা বেড়িয়ে আছে। এই আবহে সব খোয়াতে বসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কি ফের কংগ্রেসের চালানো নৌকার পাল ধরেই রাজনৈতিক ময়দানে বেঁচে থাকার লড়াই চালাবে? স্পষ্ট হবে সোমবার।