নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জঙ্গি হামলায় পহেলগাঁওয়ে প্রাণ গিয়েছিল ২৬ জনের। এরপর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি না মেনে পাকিস্তানকে জল দেওয়া বন্ধ করেছে ভারত। তীব্র গরমে এখন পাকিস্তানে হাহাকার। সিন্ধু ও বালুচিস্তানে জলের জন্য কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সিন্ধু অঞ্চলেই পাকিস্তানে রাজধানী করাচি। যার ফলে পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশই প্রাভাবিত।
পাকিস্তানের বেশ কিছু খবরে প্রকাশ, সিন্ধু নদের ওপর নির্মিত অন্যতম বৃহত্তম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেচ পরিকাঠামো ‘সুক্কুর ব্যারেজ’কে কেন্দ্র করে এই সঙ্কট ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের একাংশের লক্ষ লক্ষ একর কৃষিজমির জলের উৎস হিসেবে এই ব্যারেজটি পাকিস্তানের কৃষি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলের ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উত্তর-পশ্চিম খালে ৬৪.১ শতাংশ, রাইস খালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু খালে ৮২ শতাংশ জলের অভাব লক্ষ্য করা গেছে। সিন্ধুর সেচ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাবের জন্য বরাদ্দ ৪৪,০০০ কিউসেক জল। কিন্তু পাঞ্জাব ৫৩,৩৯৪ কিউসেক জল তুলে নিচ্ছে। যা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ২১ শতাংশেরও বেশি। একইভাবে জানা গেছে যে, তাউন্সা ব্যারেজ তার অনুমোদিত ২৪,০০০ কিউসেক অংশের বদলে ২৫,৬৯৪ কিউসেক জল নিচ্ছে। যা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে প্রায় ৯.৩ শতাংশ বেশি।
রাজনৈতিক দোষারোপের পালাও চলছে পাকিস্তানে। জামায়াত-ই-ইসলামির প্রধান হাফিজ নাঈম-উর-রেহমান পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন সিন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তারা করাচির দীর্ঘদিনের জলের সঙ্কট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।
সিন্ধু প্রদেশে পিপিপির সভাপতি নিসার আহমেদ খুহরো বারবার সতর্ক করেছেন, পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান কৃষি অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও সিন্ধু তার ন্যায্য জল পাচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, সিন্ধু প্রদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ লক্ষ (৫.৫ মিলিয়ন) টন চাল উৎপাদিত হয় এবং চাল রফতানি থেকে প্রায় ১৪০ কোটি (১.৪ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়। সিন্ধু প্রদেশের এই জল সঙ্কট পরিস্থিতিকে ‘অর্থনৈতিক গণহত্যা’ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।
কারণ দেশের মোট কৃষি উৎপাদনের ৬৭ শতাংশই আসে সিন্ধু থেকে, অথচ সেখানে জলের ন্যায্য পাওনা মিলছে না। খালগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। সুক্কুর ব্যারেজের ডান তীরের খালগুলোতে তীব্র জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই খালগুলো লারকানা, কাম্বার-শাহদাদকোট, দাদু, শিকারপুর এবং বালুচিস্তানের কিছু অংশে সেচের কাজে সুবিধা দেয়।
দাদু খালের জন্য ৪,৯৯৫ কিউসেক জল বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র ৮৬০ কিউসেক জল মিলছে। উত্তর-পশ্চিম খালে (নর্থ ওয়েস্টার্ন ক্যানেল) ৬,২৬০ কিউসেক জল পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে মিলছে মাত্র ২,১০০ কিউসেক জল। রাইস খালে ৮,৭০০ কিউসেক জলের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫,৩০০ কিউসেক জল। এই জলের সমস্যার জেরে কৃষকরা মরশুমি চাষাবাদ শুরু করতে পারছে না।
সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ওপর পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা। সিন্ধু জল চুক্তির বিষয়ে ভারতের অনড় অবস্থান এবং জল বণ্টন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ বেড়ে চলায়, আগামী মাসগুলোতে পাকিস্তানের জন্য জল সংক্রান্ত এই চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।