পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: এবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করতে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আগের বারের মতো চোর চোর স্লোগান শুনতে হল না তৃণমূল নেত্রীকে। বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা। ২০২৬-এ ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই আজ মামলা করেছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ২০২১-এ নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যাওয়ার পরও মামলা করেছিলেন। সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এখনও।
এই নিয়ে দ্বিতীয় বার হাইকোর্টে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন। বরাবর মমতার সঙ্গী আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন, তাঁর পুত্র আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই ১.৩০ টা নাগাদ হঠাৎ হাইকোর্টে পৌঁছে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমে সোজা চলে যান আদালতের ভিতরে। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর ভোট পরবর্তী অশান্তির মামলায় সওয়াল করতে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর এবার গেলেন ফলাফল নিয়ে মামলা করতে।
গত ৪ মে, ফল প্রকাশের দিনই ভবানীপুরের গণনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে পৌঁছে গিয়েছিলেন গণনাকেন্দ্রে। তাঁর এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ইচ্ছাকৃত ধীর গতিতে গণনার অভিযোগ তোলেন মমতা।
পুনরায় গণনার নির্দেশ দিতে পারে আদালত:
গণনার দিন কোনও কারচুপি হয়েছে বলে মনে হলে, যে কোনও প্রার্থী মামলা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালত প্রথমেই ইভিএম সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে পারে। ফল প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে পুনরায় গণনার নির্দেশও দিতে পারে আদালত। এই মামলায় কী হয় সেটাই দেখার।