ডিম ইস্যুতে অমিত শাহের দ্বারস্থ হচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ

32

নিউজ ডেস্ক: দিকে দিকে ডিমে আক্রান্ত তৃণমূলের শীর্ষ থেকে নীচু স্তরের নেতারা। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকে রাজ্যজুড়ে চলছে ডিম ‘থেরাপি’। যার সব চেয়ে বড় অভিযান শুরু হয়েছিল ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দলেরই আক্রান্ত কর্মীদের বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে রাস্তায় থাকা একাংশ অভিষেককে লক্ষ করে ডিম ছোড়েন। তাঁকে চড় থাপ্পড়ও মারেন অনেকে। সেই ভিডিও ও ছবি দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলার সময় কুণাল ঘোষকে লক্ষ করে ডিম ছোড়েন এক ব্যক্তি। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কের বাঁ চোখ অল্পের জন্য বেঁচে যায়। থানায় অভিযোগের পর ২ জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। দিকে দিকে এই ধরনের ঘটনায় এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হতে চলেছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর ডিম নিয়ে আক্রমণের বিষয়টি অমিত শাহকে লিখিত ভাবে জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সৌগত রায়।

কারণ একের পর এক তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক কিংবা প্রাক্তন মন্ত্রীদের একাংশকে পুলিশের সামনেও রেয়াত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশোধনাগার থেকে আদালতের পেশের আগে গাড়িতে তোলার সময়ও ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে একাধিক তৃণমূল নেতাকে। এবার বারাসাতের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকেও থানা থেকে বের করার সময় ডিম ছুড়ে মারা হয়। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকেও গ্রেফতারের পর থানার সামনেই ডিমের স্বাদ পেতে হয়েছে। সেই সময় জনতার ডিমের ভয়ে গাড়ি থেকেই নামতে চাননি জয়প্রকাশ।

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাসফুলের ভরাডুবির পর দিকে দিকে এখন আতঙ্কে তৃণমূলের নেতারা। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। তবে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর যে ভাবে ডিম হামলা হয়েছে তাতে ঘাসফুল শিবিরের নীচুস্তরে আতঙ্ক বেশ জাঁকিয়ে বসেছে।
তবে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় এই প্রথম ডিম ছুড়ে গ্রেফতার হলেন কেউ। এবার সেই ডিম ইস্যু যাচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে।