‘দিদিই তৃণমূলের পরিচয়’, বিদ্রোহীদের সঙ্গে থেকেও মনের কথা বলেই ফেললেন রচনা!

47

নিউজ ডেস্ক: বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে থাকলেও NCPI-এ যুক্ত হওয়ার আবেদনপত্রে সই ছিল না তাঁর। মঙ্গলবার তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে সই করতে দিল্লি গেলেন তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজধানীর বুকে সংসদ চত্বরে রচনার কাছে প্রশ্ন ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছেড়ে তিনি কেন বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে গেলেন তিনি? রচনার জবাব, ‘কখনওই দিদির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। তাঁর প্রতি সম্মান আছে, থাকবে। সবাই বলেন দিদিকে দেখেই আমাদের ভোট দিয়েছে জনগণ। কারণ তৃণমূলের পরিচয়ই দিদি। কিন্তু ভোট দিয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কারণ এলাকার উন্নয়নে আমি কাজ করব।’

রচনার কথায়, কোনও রাগ নেই তৃণমূলের সঙ্গে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে থাকার উদ্দেশ্য কেন্দ্রের সঙ্গে থেকে কাজ করলে এলাকার উন্নয়নে গতি আসবে। যা গত ১৫ বছরে হয়নি। দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সম্মান জানিয়ে রচনার বক্তব্য, ‘কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আসলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার বিজেপির সরকার পশ্চিমবঙ্গে। এক মাসেই কতটা উন্নয়ন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে দেখা যাচ্ছে।’

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর সর্বাগ্রে ফোঁস করতে শুরু করেছিলেন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দোস্তিদার। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মূল সূত্রধর তাঁকে বলা যায়। তিনি স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মঙ্গলবার যোগ দিয়েছিলেন নতুন দলে যোগ হওয়ার পর। এদিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক সদ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর অভিযোগ, ‘পশ্চিমবঙ্গে গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকার নাবালিকা বিবাহ রুখতে সেভাবে কাজই করেনি।’ এমনকি, পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা পাচার ইস্যুতেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি কাকলির। নাবালকদের নির্যাতনে সরকার কী কী পদক্ষেপ করবে সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হয়েছে এদিন।

পাশাপাশি সদ্য NCPI-এর সঙ্গে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদদের মিশে যাওয়া নিয়েও এদিন আলোচনা হয়। কাকলির মতে, এনসিপিআই-এর তরফেও তৃণমূলের এই সাংসদদের গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ-র সঙ্গে কাজ চালু থাকবে।