শুভেন্দুর সাথে সৌজন্য, দেবাশীষ কুমারে ভরসা হারাল তৃণমূল!

9

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: সোমবার পুরসভার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে সৌজন্য বিনিময় বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা দেবাশীষ কুমারের। তারপরেই, দলের সাংগঠনিক পদ খোয়ালেন দেবাশীষ। নিছক রদবদল নাকি দেবাশীষে ভরসা হারাল দল, জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং ভোট পরবর্তী নাটকীয় পরিস্থিতির আবহে দলকে ঢেলে সাজানোর কথা আগেই জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এবারে তৃণমূল কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতার সভাপতির পদ থেকে সরানো হল রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা দেবাশীষ কুমারকে। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে।

সোমবার পুরসভার এক অনুষ্ঠানে দেবাশীষ শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে বলেন, “পরে ফোনো কথা হবে।” তারপর মঙ্গলবারেই এই সিদ্ধান্ত। ফলে, জল্পনা তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে। তবে তৃণমূল সূত্রের খবর, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই সিদ্ধান্ত। তবে, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছে তৃণমূলের একের পর এক নেতা। সেই আবহে দেবাশীষের এই ইশারায় কি পদ খোয়ালেন তিনি? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

দলের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা। কেউ বলছেন, দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের কমিটি অনেক আগেই ভেঙে নতুনভাবে কমিটি গঠন করার কথা ভাবা হচ্ছিল। তবে, দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের একাংশের মত, দলের এই কঠিন সময় দেবাশিষ কুমারের মতো বর্ষীয়ান এবং দক্ষ নেতাকে সরানো কি দলের পক্ষে ভালো হল?

প্রসঙ্গত, সোমবার কলকাতা পুরসভায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরের সঙ্গে তিনি সৌজন্য বিনিময় করেন। বাদ যাননি দেবাশিস কুমারও। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ভাবে কথা বলেন এবং ইশারায় পরে ফোনে কথা হবে তাও জানান।‌

অন্যদিকে, দায়িত্ব পেয়ে উৎসাহিত বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতার সংগঠনকে আর‌ও শক্তিশালী করা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানো, বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।‌ যদিও দেবাশীষ কুমারের অপসারণ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোন‌ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংবাদ লেখা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।