রামমন্দিরে দুর্নীতিতে গ্রেফতার চুনোপুঁটিরা!

32

নিউজ ডেস্ক: রামমন্দিরে প্রণামীর অর্থ এবং সোনা-রুপোর অলংকার চুরির তদন্তে উত্তর প্রদেশ সিটের তদন্ত রিপোর্টের পর গ্রেফতার আটজন। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ দুর্নীতির মূল মাথাদের আড়াল করতেই ধরা হয়েছে সাধারণ কর্মী, গাড়ির চালকদের।
সিটের রিপোর্টে অভিযুক্তদের গ্রেফতারির পরই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রায়। সেই সঙ্গে ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রও পদত্যাগ করেন। ধৃতদের একাংশের সঙ্গে এই দুজনেরই যোগাযোগ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেছে।
ধৃতদের মধ্যে রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। তাঁদের কয়েক জনের ঘর থেকে ‘হিসাব-বহির্ভূত’ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সদ্য পদত্যাগী শ্রী রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের গাড়িচালক ধৃত রামশংকর যাদব। ধৃত রমাশংকর যাদব যুক্ত ছিলেন প্রণামী গোনার কাজে। তিনি পদত্যাগী ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্রের আত্মীয়। ধৃত অনুকল্প মিশ্রও অনিলের আত্মীয়। রমাশংকর মিশ্রের জামাই লবুকশ মিশ্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত অবিনাশ শুক্লা রামমন্দিরের কর্মচারী। তাঁর হেফাজত থেকে ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। রামশংকর যাদবের ভাইপো ধৃত মণীশ যাদব প্রণামী গণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। ধৃত সুবাস শ্রীবাস্তব প্রাক্তন ব্যাংক কর্মচারী। ধৃত করুণেশ পান্ডে প্রণামীর অর্থের রসিদ দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন।
শিবসেনা (উদ্ধব)-এর নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, তাঁর দল ৪ কেজি রুপোর ইট রামমন্দিরে দান করেছিল। দলনেতা উদ্ধব ঠাকরে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও তার রসিদ পাওয়া যায়নি।
রামমন্দিরে প্রণামী চুরিকাণ্ডে চুনোপুঁটিদের ফাঁসিয়ে মূল মাথাদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস, উদ্ধবসেনা, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলের। সঞ্জয় রাউতে অভিযোগ, রামমন্দির থেকে চুরি করা ২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তৃণমূল ও উদ্ধবের শিবসেনার সাংসদদের ভাঙানো হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হোক। চুরির অভিযোগ রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের বিরুদ্ধে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই এফআইআর করেছে। তা হলে আসল অপরাধীরা কী ভাবে ধরা পড়বে? প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরের প্রাক্তন কর্তা নৃপেন্দ্র মিশ্র বর্তমানে রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান। তাঁর বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি তুলেছে কংগ্রেস।