নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় নিহত ৩৬, আহত দেড়শোর বেশি মানুষ। পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই অভিযান জঙ্গি গোষ্ঠী, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর বিরুদ্ধে।
পাকিস্তান বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্ত এলাকায় ‘ডাবল-ট্যাপ’ বোমাবর্ষণসহ ব্যাপক হামলা চালায়। আফগান সরকারের মতে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ সাধারণ নাগরিকরা রয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, তারা ২৯ জঙ্গিকে লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপি-সহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের মাধ্যমে থেকে পাকিস্তানের ভেতরে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে।
আফগানিস্তান সরকার তাদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পাকিস্তানের এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’, ‘অপরাধ’ ও ‘নৃশংসতা’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজৌরে পাক-আফগান সীমান্তে স্থল অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানি সেনা। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লা তারার বলেছেন, রবিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। নিশানায় ছিল জঙ্গিদের ঘাঁটি। সম্প্রতি করাচিতে হামলা হয়েছেছিল। সেই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ টিটিপি-র ছায়াগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার। পাক মন্ত্রীর দাবি, এই দুই গোষ্ঠীর সদস্যেরাই রবিবারের অভিযানে নিহত হয়েছে। জামাত-উল-আহরার ভারতের মদতপুষ্ট বলে দাবি করেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে তারার লিখেছেন, ২৮ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনী বাজৌরে পাক-আফগান সীমান্তের কাছে কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। সুনির্দিষ্ট, দক্ষ অভিযানের ফলস্বরূপ ‘খাওয়ারজি গ্রুপে’র কমান্ডার খান ফারোশ এবং ভারতের মদতপুষ্ট সংগঠন জামাত-উল-আহরারের তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
তারারের দাবি, পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনারের তিনটি জায়গায় সেনা অভিযানে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৫ জঙ্গির। এ ছাড়া, অনেক অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের হামলাকে কাপুরুষোচিত এবং সাধারণ নাগরিকের ওপর বলে উল্লেখ করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার।
উল্লেখ্য, করাচির আধাসেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় তিন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল শনিবার। হামলাকারী তিন জঙ্গিরও মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। করাচিতে এই হামলার সঙ্গে ভারতের যোগ আছে বলে আগেই দাবি করেছিল পাকিস্তান। এদিকে, পাকিকস্তানের অভিযোগ উড়িয়ে তাদের আত্মবিশ্লেষণের পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেছেন, অন্যের দিকে আঙুল তোলা বন্ধ করে পাকিস্তানের উচিত তাদের দেশের দিকে তাকানো। নিজের দেশের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ করা।