নিউজ ডেস্ক: অরুণাচলের বেশকিছু জায়গায় ভারতীয় সেনার টহলদারি জোর করে আটকছে চিন। রচনাত্মক কংগ্রেস সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ স্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে কংগ্রেসের একটি সভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে তিনি সরাসরি খবর পেয়েছেন যে অরুণাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর টহল আটকে দিয়েছে চিনা সেনা। এরপরই রাহুল বলেন, বছর ছয়েক আগে গালওয়ানে চিনা হামলায় ভারতের ২২ জওয়ানের মৃত্যুর পর জুম কলে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে চিন ভারতের ভূমির এক ইঞ্চিও দখল করেনি। অথচ সেনাবাহিনী বলেছিলেন, ভারতের জমি দখল করেছে তিন। এর ফলে ভারতের বিদেশনীতিতে আঘাত পড়েছে।
উত্তর-পূর্বের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ টহলবিন্দু শেরা পয়েন্ট ৫। এটি অবস্থিত ভারত-তিব্বত সীমান্তে। এই এলাকাকে তিব্বত-ভারত সীমান্তের শেষ বিন্দু বলা হয়। সম্প্রতি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব আর কে সিং সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছিলেন, অরুণাচলের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা বাহিনী কতটা ঢুকে পড়েছে সেটা স্পষ্ট করুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর প্রশ্ন, শেরা পয়েন্ট ৫ ছাড়া অন্য কোনও জায়গায় কি ভারতীয় সেনার টহল বন্ধ করেছে চিন? ভারতের ভূমিতে সেনার টহল বন্ধ করা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। এজন্যই সরকারের স্পষ্ট বিবৃতি জরুরি।
যদিও সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, দেশের সব পোস্ট ও ঘাঁটি সুরক্ষিত। আমরা কোনও ভূখণ্ড হাতছাড়া করিনি। সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চিনা আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছে অরুণাচল প্রদেশের ছাত্র সংগঠন আপসু। অভিযানের নাম, তাকসিং চলো, ভারত বাঁচাও। স্বাধীনতা দিবসে, শনিবার, তাকসিংয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সংগঠনের নেতা মাতো বুই বলেছেন, আমাদের উদ্দেশ্য সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বার্তালাপ, তাঁদের উদ্বেগ-আশঙ্কা সবার সামনে প্রকাশ করা।
তাকসিংয়ের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গত এক মাসের মধ্যে চিনা সেনা অরুণাচল প্রদেশের পুকার লা এবং ওল্লো এলাকায় প্রবেশ করেছে। অরুণাচল প্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী কাফা বেঙ্গিয়া একটি রিপোর্টে লিখেছেন, সীমান্তবর্তী নাঙ্গা পাহাড় বর্তমানে শিকার ও ইয়াক পালনের জন্য নাহ ও মারা সম্প্রদায়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশে চিনা আগ্রাসন সম্পর্কে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই বলেছেন, অরুণাচলে ভারতীয় ভূখণ্ডের তাকসিংয়ে ৬২৮ জিয়াওকাং ভবন বানিয়েছে চিন।