আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে নির্মলকে ছোঁড়া হল ডিম , প্রিজন ভ্যান পর্যন্ত হেঁটে যেতে কপালে জুটলো কিল, চড়,লাথি

37

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: অভয়া কাণ্ডে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হয়েছে নির্মল ঘোষ। তাঁর গ্রেপ্তার হতেই খড়দহে উৎসবের মেজাজ। আজ নির্মল ঘোষকে আদালতে পেশ করার দিন। সময় যত গড়াতে থাকে ততই খড়দা থানার সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। ডিজে বাজিয়ে নাচতেও থাকেন অনেকে।‌

অপ্রীতিকর ঘটনা যে ঘটতে পারে তা আগেভাগেই টের পেয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। সেইমতো থানা থেকে বের করার সময় নির্মল ঘোষের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। মাথায় হেলমেটও পরানো হয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয় নি। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে ডিম
ছোঁড়া হয়। খেতে হয় চড়, লাথিও।

পুলিশ সূত্রে খবর, পুরী থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁকে খরদা থানায় নিয়ে এলে তিনি থানার লকআপে বসে খাবার নিয়ে নানান আবদার করেন । ক্যান্টিনের এক কর্মীকে দেখতে পেয়ে তাঁর থেকে আদা- দুধ চা চান । সকালে তাঁকে দেখতে লকআপে যান পুত্রবধূ দীপান্বিতা ঘোষ। শ্বশুরের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসার সময় খাবার চান নির্মল ঘোষ। তাঁকে সেই সময় ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট আর ঘুগনি দেওয়া হয়। তারপরই আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে পুলিশ।

আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়, প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকলেও একের পর এক ডিম ছোঁড়া হয়, নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে। থানার দরজা থেকে যখন প্রিজন ভ্যান অবধি তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে কিল ,চর ,ঘুষিও চলতে থাকে। ‌ কেউ কেউ বিভিন্ন মন্তব্য করেন। কার্যত দৌড়ে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়। পুলিশকে হিমশিম খেতে দেখা যায়। ‌

৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই রাতে শ্মশানঘাটে কী হয়েছিল, বারাকপুরের সিপিকে সেই তদন্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।‌

নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলা হয়। সেই মতো এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। তার অভিযোগের দু’দিন পরই ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর সুইচড অফ করে দেন। রাজ্য পুলিশ তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। ওড়িশার আদালতে তোলার পর ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দায় নিয়ে আসা হয় নির্মল ঘোষেকে। তাঁর গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

আজ আদালতে পুলিশ নির্মল ঘোষকে নিজেদের হেফাজতে চাইবেন। দু’বছর আগে অভয়ার মৃত্যুর রাতে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল? কেন তড়ি ঘড়ি অভয়ার দেহ সৎকার করা হয়? কেন শ্মশানে কোন‌ও নথিতে অভয়ার পরিবারের কাউকে সই করতে দেওয়া হয়নি? এই ঘটনার সাথে আর কারা যুক্ত রয়েছে? সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য পুলিশি হেফাজতের আবেদন চাইবেন তদন্তকারীরা।