আমার আর পড়ুয়াদের ব্যাপার, অন্য কারো নাক গলাবার দরকার নেই: প্রধান বিচারপতি

39

নিউজ ডেস্ক: নালসার বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অন্য কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা আইনের স্নাতকদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া অথবা রাজ্য স্তরের বার কাউন্সিলগুলি কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না৷ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রের৷ তিনি বলেছেন, পড়ুয়াদের বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে৷ বিক্ষোভ দেখানোর জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না৷ প্রধান বিচারপতি বলেছেন, এটা আমার এবং ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপার, বার কাউন্সিলের এখানে নাক গলানোর কোনও অধিকার নেই।
ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে নালসার ইউনিভার্সিটি সংক্রান্ত নির্দেশিকা বাতিল করেছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। সম্প্রতি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান তথা বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ মনন কুমার মিশ্র জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে নালসার ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হওয়া কোনও স্নাতককে দেশের কোথাও আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে দেওয়া হবে না। ১৩ আগস্ট বার কাউন্সিলের পক্ষে ৬ পাতার নির্দেশিকা জারি করেছিলেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ। দেশজুড়ে বিতর্কের পর পিছু হটল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া দুটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল৷ সেই বিজ্ঞপ্তির একটিতে বলা হয়, নালসার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা এবছর আইনের স্নাতক হিসেবে পাশ করবেন, তাঁরা আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়াতে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন না৷ যে পড়ুয়ারা সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার জন্যও নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র৷ নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের বার কাউন্সিলের এই নির্দেশের বিরোধিতায় দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে৷
গত সপ্তাহে নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-র কিছু পড়ুয়া প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে তাদের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণের বিরোধিতা করে। পড়ুয়াদের সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির ‘আরশোলা’ মন্তব্যই তাঁদের ক্ষোভের কারণ বলে জানা গেছে।
গতকালের লেখা চিঠিতে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র সব রাজ্যের বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দেন নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল, হায়দারাবাদ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক হওয়া কোনও ছাত্রকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।
এই ঘটনার পর বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র নালসার ইউনিভার্সিটির উপাচার্যকে নির্দেশ দেন কোন কোন পড়ুয়া বিরোধিতা করেছে, অন্যদের সংগঠিত করেছে, সংবাদমাধ্যমে যোগাযোগ করেছে, সোশাল মিডিয়ায় প্রচার চালিয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করে নাম জানানোর। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা কোনও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না বা এই বিক্ষোভের পেছনে বহিরাগত কেউ আছে কি না তাও জানাতে হবে।
মনন কুমার মিশ্রের নির্দেশের পরই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই তাঁর এই নির্দেশের সরাসরি বিরোধিতা করেন। এর পরেই নির্দেশ থেকে সরতে বাধ্য হয় বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। পরবর্তী বিবৃতিতে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া জানায়, নালসার ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারা তাঁদের ইচ্ছামতো বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
বার কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞার নির্দেশিকার পরই এই বিষয়ে মুখ খোলেন ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস। সমাজমাধ্যমে তিনি বলেন, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করায় নালসার-এর ২০২৬ সালে সম্ভাব্য উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করার যে সিদ্ধান্ত বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া নিয়েছে, তা অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ, গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং গ্রহণযোগ্য নয়। একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের সমষ্টিগতভাবে শাস্তি দেওয়া যায় না।
সৌরভ দাস আরও বলেন, চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র যদি অবিলম্বে এই আদেশ প্রত্যাহার না করেন, তবে দেশের সব আইনের শিক্ষার্থী, আইনজীবী, প্রবীণ আইনজীবী এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন তরুণ ‘ককরোচ’রা বার কাউন্সিলের কার্যালয় ও মিশ্রের সরকারি বাসভবনের সামনে এবং নিজ নিজ রাজ্যে প্রতিবাদে শামিল হবে।
বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও। তিনি বার কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞা পোস্ট করে লেখেন, যদি সব ‘আইনি ককরোচ’ (legal cockroaches) একত্রিত হয়, তবে কী হবে?