গ্রেফতার অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী

50

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:কয়েক’শ কোটির সম্পত্তির কোনও হিসেব নেই। কয়েকশো কোটির সম্পত্তির মালিক স্বামী – স্ত্রী। এমন‌ই অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে খুন, তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগ। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করল বেঙ্গল এসটিএফ। আজ পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। কিছুদিন থেকেই তিনি বেপাত্তা ছিলেন। অবশেষে বেঙ্গল এস টি এফ পাকড়াও করেছে দেবরাজকে।‌

ইতিমধ্যেই দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সী রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রথমে রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও পরে সেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ফের আদালতে যান তাঁরা। অদিতি মুন্সির ছোট্ট সন্তান আছে, তাই তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হলেও, ছাড় পাননি দেবরাজ চক্রবর্তী। রক্ষাকবচ চলে যাওয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার করা হল দেবরাজ চক্রবর্তীকে।‌

বিধাননগর থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এফআইআর।‌ পাশাপাশি বাগুইআটি থানাতেও এফআইআর করা হয়েছে। তাঁদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি অদিতি মুন্সী, এমন অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।‌

সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি, তা গোপন এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, দেবরাজের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ করেছিলেন কেষ্টপুরের প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা। অভিযোগ, কেষ্টপুরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নির্মাণকাজের সময় তাঁকে এবং তাঁর লোকজনকে বাধা দেওয়া হয়। দেবরাজের নেতৃত্বে মণীশ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগীরা এই কাজ করেছিলেন। প্রোমোটারের কাছ থেকে মোটা টাকা দাবি করেছিলেন তাঁরা। কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। তাতে তার বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, দেবরাজকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং তাঁর মণীশকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর আরও টাকা চাওয়া হচ্ছিল। আবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিধাননগর এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চালানো, জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে দেবরাজের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত। দেবরাজের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত দু’জনকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।