নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ভারতের আর্থিকভাবে দুর্বল, কমবয়সি ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে টার্গেট করছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এমন একটি নেটওয়ার্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে যারা ইনস্টাগ্রামের মন্তব্যের মাধ্যমে অভাবী, স্কুলছুট ও নেশায় আসক্ত তরুণদের খুঁজে বের করে। শুরুতে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন এবং তরুণের অভাব দূর করতে ১২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। রিল বা পোস্টে করা হতাশাগ্রস্ত কমেন্ট দেখে হ্যান্ডলাররা সরাসরি ইনবক্সে বা মেসেঞ্জারে তরুণদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে।প্রাথমিক ধাপে স্থানীয় থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, বা কোনো নির্দিষ্ট সরকারি ভবনের ভিডিও ও ছবি তুলে পাঠাতে বলা হয়। কোনো অচেনা জায়গা থেকে অস্ত্র পৌঁছানো, পার্সেল বা টাকা সংগ্রহ করে অন্য কোথাও পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তরুণরা চক্রের জালে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়লে এবং ব্ল্যাকমেইলের শিকার করে তাঁদেরকে দিয়ে গ্রেনেড হামলা বা সরাসরি সহিংস অপরাধ করানো হয়। হ্যান্ডলাররা নিজেরা কখনো সামনে আসে না। তারা ভারতের বাইরে বসে এনক্রিপ্টেড চ্যাট অ্যাপ এবং ভিপিএন ব্যবহার করে এই তরুণদের নিয়ন্ত্রণ করে।গত দুই বছরে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান, দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা এমন বহু তরুণকে শনাক্ত করেছে, যাদের অনলাইনে নিয়োগ করেছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি ও তার সহযোগীরা যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা আইএসআই (ISI)-এর নির্দেশে এই কাজ করছিল। মহারাষ্ট্র এটিএস (ATS) জানিয়েছে যে, তাঁরা এমন ২০০-এর বেশি প্রোফাইল চিহ্নিত করেছে যারা শাহজাদ ভাট্টির মতো পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত ছিল। বর্তমানে ভারতের সাইবার সেলগুলো এই ধরনের অনলাইন নিয়োগ রুখতে সার্বক্ষণিক ‘ডিজিটাল নজরদারি’ চালিয়ে যাচ্ছে।