পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার । বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর মৃতদেহ। কার্যালয় থেকে মিলেছে এক পাতার ‘সুইসাইড নোট’। রাজনীতিতে আসাই ভুল, তাই এই কঠিন সিদ্ধান্ত এমনটাই সুইসাইড নোটের সারমর্ম। প্রাথমিক অনুমান, রাজনৈতিক চাপে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন তিনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।’’
সুইসাইড নোটে’ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আরও লিখেছেন, ‘‘টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।” শুধু তাই নয়, তাঁর বংশের কেউ যাতে রাজনীতিতে না আসেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী লিখেছেন, “আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের দুর্দিনের সঙ্গী ছিলেন এই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের শুরুর দিন থেকে দলে ছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীও হয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় । বিধানসভা ভোটে রামপুরহাট কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে তিনি পরাজিত হন।
রাজ্যের পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস দু’ভাগে ভাগ হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তবে বীরভূমের লালমাটির রাজনীতিতে অনুব্রত মন্ডলের বিরোধী শিবিরেই ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কোনও দুর্নীতিতে উঠে আসেনি , দাবি স্থানীয়দের। তাহলে কী এমন ঘটল যে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হল ? তদন্ত করছে পুলিশ।