আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ অভিষেক , কুনাল, ঋতব্রতদের

24

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: শনিবার দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন৷ রবিবার সেই মানুষটাই নেই। সদ্য নব তৃণমূলে যোগ দিলেও ২০০১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী ছিলেন। পেশায় অধ্যাপক।‌ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ বারের তৃণমূল বিধায়ক, ২০২১ সালে তাঁকে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও দেওয়া হয়৷ তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না দুই তৃণমূল শিবিরের কেউ।‌ একদিকে যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় , কুণাল ঘোষসহ আর‌ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ পোস্ট করে শোকপ্রকাশ করেন ঋতব্রতও৷ সোশাল মিডিয়াতে বি জে পি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু হৃদয়বিদারক নয়, এই ঘটনা সেই প্রত্যেক মানুষের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে রাজনীতি ও সাংবাদিকতারও একটা সীমারেখা থাকা প্রয়োজন’।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিখছেন, ‘আজীবনের শিক্ষক এবং জনসেবক আশিসদা সততা, মর্যাদা ও সরলতার সঙ্গে তাঁর জীবনের কয়েক দশক মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। রামপুরহাটের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব এবং সমগ্র বীরভূম জেলার গর্ব’।

আসিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সুইসাইড নোটের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,‘আত্মহত্যা করার আগে তার লেখা সুইসাইড নোট- এ তিনি যে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও তাঁকে কালিমালিপ্ত করার যে যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন, তা উপেক্ষা করা যায় না। বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে আজ অবশ্যই ভাবতে হবে, এমন এক রাজনীতির পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে অভিযোগকে ক্রমাগত প্রচার করে বড় করে তোলা হয়, একজন মানুষের সারাজীবনের সুনামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই জনতার আদালতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া হয়’।

তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, ‘যাঁরা এই অপপ্রচারের অংশ হয়েছিলেন, তাঁদের নিজেদের কথা ও কাজের মানবিক পরিণতি নিয়ে অন্তত আজ ভাবা উচিত। রাজনৈতিক লড়াই আসবে, যাবে। কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তাকে আর কখনও ফিরিয়ে আনা যায় না’।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরো লেখেন, ‘বাংলা আজ তার অন্যতম এক সৎ অবং আদর্শবান ভূমিপুত্রকে হারাল। তাঁর পরিবার, ছাত্রছাত্রী, অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। এই অকল্পনীয় শোক সহ্য করার শক্তি ঈশ্বর তাঁদের দিন’।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর মৃত্যুর পরে শোক প্রকাশ করে পোস্ট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি লেখেন, ‘একজন ভদ্র রাজনীতিক আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন৷ ওঁর সঙ্গে বলা কথাগুলো আজীবনের জন্য শিক্ষনীয় হয়ে থাকবে৷’

উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে যা লেখা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, তার জন্য রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক, ‘কালীঘাট শিবিরে’র কুণাল ঘোষ।

তাঁর বক্তব্য, “এই যে একটা ট্রেন্ড চলছে-কাউকে কলঙ্কিত করে দাও, চোর বলে দাও, দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাও, ডিম মারো, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখাও…কোনও অভিযোগ প্রমাণের আগেই সামাজিক ভাবে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। ভয় দেখানো হচ্ছে, ডিম মারা হচ্ছে, আতঙ্কিত করা হচ্ছে মানুষকে, চাপ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মনের উপর। আশিসের মৃত্যু এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

২১ জুলাই উপলক্ষে কলকাতা আসার সময় আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘটা একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আছে। আপনারা দেখিয়েছেন। ২১ জুলাই তিনি যদিও ভাল তৃণমূলের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। তাঁকে এক বিজেপি নেতা মাঝরাস্তায় যেভাবে অপমান করেছেন…বলেছেন, ‘বয়স কম হলে পিঠের চামড়া গুটিয়ে নিতাম’, এটা কোনও ভদ্রলোক নিতে পারবে না। এই ঘটনা যদি আত্মহত্যা হয়ও, বিজেপি-র ওই গুন্ডাটাকে অ্যারেস্ট করা উচিত। ফেসবুকে সেই ভিডিও পোস্ট করেছেন কুণাল।

সব মিলিয়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। ‌