উপ-প্রধানমন্ত্রীর টোপ দেওয়া হয়েছিল নীতীশকে!

76

নিউজ ডেস্কঃ দীর্ঘ দুই দশক পর উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়ে চর্চা। কে হবে দেশের পরবর্তী উপ-প্রধানমন্ত্রী? উপ-প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বিজেপির শীর্ষমহলেও যে ক্ষমতার শীতল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে উপ-প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ সেই আশঙ্কাকেই উসকে দিয়েছে।

অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের সময়ে শেষবার লালকৃষ্ণ আদবাণীকে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছিল দেশ। মনমোহন সিংয়ের ১০ বছর এবং নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছরের কার্যকালে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি কাউকে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আবার উপ-প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে দেশ।

গত কিছুদিন থেকে এনিয়ে জোর চর্চা। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সরকারে কে হবেন উপ-প্রধানমন্ত্রী। চর্চায় রয়েছে শাসক বিজেপি এবং শরিক দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সহ একাধিক নাম রয়েছে চর্চায়।

রাজনাথ সিং বিজেপি সভাপতি থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী করা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীকে। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিকে, কয়েকমাস আগে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে রাজ্যসভায় পাঠানো হয় বর্ষীয়ান নীতীশ কুমারকে। রাজ্যসভায় গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদবী পাননি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

খুব শীঘ্রই রদবদল হচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম দিল্লির রাজনীতি। তাই উপ-প্রধানমন্ত্রীর নিযুক্তি নিয়ে এখনই হয়ত কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না মোদী ক্যাবিনেট, তবে জল্পনা তুঙ্গে। তালিকায় বেশ কয়েকটি নাম থাকলেও সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।

একটা মহল আবার উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সম্ভাবনা দেখছেন। বিহার বিজেপির হাতে তুলে দিয়ে রাজ্যসভায় চলে গেছেন নীতিশ। কিন্তু সেখানে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি তাঁকে। নীতিশকে উপ-প্রধানমন্ত্রীর টোপ দেওয়া হয়েছিল বলেও নয়া দিল্লিতে গুঞ্জন।

শুরুতে শোনা গিয়েছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন নীতীশ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উপ-প্রধানমন্ত্রীর টোপ পেয়েই বিহার বিজেপির হাতে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত হন নীতীশ। নীতীশের এই সিদ্ধান্তে প্রথমবার বিহারে বিজেপি তাদের প্রার্থীকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসায়।

তবে উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে ভূমিকা থাকবে আরএসএসেরও। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদীর নিয়ন্ত্রণেই থাকবে সবকিছু তবু, বিজেপির শীর্ষমহলেও ক্ষমতার শীতল যুদ্ধ যে শুরু হয়ে গেছে উপ-প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ সেই আশঙ্কাকেই উসকে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন সর্দার প্যাটেল, যাঁর কার্যকাল ছিল ৩ বছর ১২২ দিন। ১৯৫০ থেকে এপর্যন্ত সবমিলিয়ে সাতজন উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, তবে এদের কেউই পুরো কার্যকাল দায়িত্বে থাকেননি।