বারুইপুরে শুভেন্দু যাওয়ার আগেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা অগ্নিমিত্রাদের
নিউজ ডেস্ক:বারুইপুরে নাবালিকা খুনে ইতিমধ্যেই পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার নামে দুই অভিযুক্তও। কিশোরীর দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সোমবারই হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাতে দেখা গিয়েছে, নাবালিকাকে যখন পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, তখনও সে বেঁচে ছিল কিশোরী। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতনের পর পা দিয়ে নাবালিকার গলায় চাপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিছু সময় ওই ঝুপড়িতেই ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ। রাতের দিকে দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। শনিবার ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছর বয়সি কিশোরী। রবিবার পুকুর থেকে উদ্ধার হয় কিশোরীর দেহ। কিশোরীর বাবার দাবি অনুযায়ী, মেয়ের বান্ধবীর জন্মদিন ছিল সামনে। তাকে উপহার দেবে বলে শনিবার বিকেলে বাজারে বেরিয়েছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীটি। সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায়। মেয়ে বাড়ি ফেরেনি দেখে খোঁজখবর করেন তাঁরা। স্থানীয় ক্লাবের যুবকেরাও কিশোরীর খোঁজ শুরু করেন।এলাকার নানা সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখা থেকে কিশোরীর সন্ধান মেলে। মঙ্গলবার সকালে বারুইপুরে কিশোরীর পরিবারের সাথে দেখা করতে যান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছান এবং শোকার্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন ,মা খুব অসুস্থ,তবে আমাদের সরকার এবিষয়ে যারা যারা জড়িত তাঁদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেওয়া হবে।‘‘আগের সরকার তো চেষ্টা করেনি আশ্বস্ত করার। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। কিশোরীর পরিবার জানিয়েছে, সরকারের ভূমিকায় তাঁরা সন্তুষ্ট। মুখ্যমন্ত্রীর উপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁদের। আমরা পাশে দাঁড়াতে এসেছি। যে রকম আগেও দাঁড়িয়েছি। এটা রাজনীতি করার সময় নয়।’’” লকেট চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, “পরিবর্তনের বাংলায় আমরা এমন ঘটনা দেখতে চাই না, অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তি হবে”। দ্রুততার সঙ্গে মামলার নিষ্পত্তি হোক। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। বারুইপুরে পৌঁছান আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি সেখানে বারুইপুরের নৃশংস ঘটনায় নাবালিকার বিচারের দাবিতে সরব হন তিনি। “ভরসা ইন ভয় আউট যে স্লোগান দিয়েছিল বিজেপি আজ আমি দেখতে চাই বাস্তবায়ন আজ কিভাবে হচ্ছে।”পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নওসাদ সিদ্দিকি।পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক।”

অন্যদিকে মঙ্গলবারই বারুইপুরে যবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবারের দাবি মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পরিবারের লোকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। অন্যদিকে সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কলকাতা থেকে বেরিয়ে গেছেন নতুন ঋতব্রত তৃণমূলের প্রতিনিধিরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন শিউলি সাহা, সায়নী ঘোষ , চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য,কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় । এই মুহূর্তে কামাল গাজীর কাছাকাছি রয়েছেন।