ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা হাসিনার

58

নিউজ ডেস্ক: এবছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। একটি সাক্ষাৎকারে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে আমি এবং আওয়ামী লিগের অন্যান্য নেতা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।


বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সাক্ষারকারে হাসিনা জানিয়েছেন, দুছর আগে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিলেও এখন স্বেচ্ছায় ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান।


৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে ফেরার পর আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তারপরও আমাকে যেতে হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুও হয়, আমি দেশের মাটিতেই মরতে চাই— যেখানে আমার মা-বাবা সমাহিত এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।


তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, কখন আত্মসমর্পণ করবেন কিংবা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন— এসব বিষয়ে কিছু জানাননি শেখ হাসিনা।


২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। একাধিক মেয়াদে প্রায় ২০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।


ছাত্র-জনতা নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাসিনা সরকারের পতনের আগে অভ্যুত্থান দমনে চালানো অভিযানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।


শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে দেশে ফেরত নিতে চায়। আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। আমি নিজেই দেশে যাব।


এপ্রিলে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লিগের রাজনৈতিক অধিকার ও ন্যায়বিচার— এসব গোপন আলোচনার বিষয় নয়। সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও দমন-পীড়নের কারণে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁকে একাধিকবার আটক করা হয়। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে ফের কারাবন্দি হন তিনি। পরে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন।


হাসিনা বলেছেন, কোনও সরকার দীর্ঘদিন কাজ করলে ভুল হতে পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে যে কোনও সরকারের ভালো-মন্দ, ঠিক-ভুল বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম। এরপর বলেছেন, ওরা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে এবং আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লিগের কাজকর্ম কেন স্থগিত করা হবে? আমরা খারাপ করে থাকলে জনগণকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন।