নিউজ ডেস্ক: তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো (যা ভারতে সিয়াং এবং অসম ও বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত) নদীর উজানে চিন বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত চিনের ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই মেগা বাঁধটি একটি সক্রিয় ভূ-চ্যুতি (অ্যাক্টিভ ফল্ট লাইন) ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের ওপর নির্মিত হচ্ছে, যা নদীর ভাটিতে থাকা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি চিন বিকল্প জ্বালানি হিসেবে জলবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে। ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় নিজেদের ইয়ারলাং সাংপোতে সম্প্রতি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদীর ওপর আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চিন। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ কোম্পানি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়নার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধটি হবে চিনের মধ্য অঞ্চলে অবস্থিত থ্রি গর্জেস ড্যামের চেয়েও বড়। গর্জেস ড্যাম থেকে বছরে ৮৮ দশমিক ২ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। নতুন এই বাঁধের উৎপাদন ক্ষমতা থ্রি গর্জেস ড্যামের চেয়ে তিনগুণের বেশি।
সাম্প্রতিক ভূতাত্বিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাঁধের একেবারে নীচ দিয়ে একটি সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি বা ফল্ট লাইন চলে গেছে। এই অঞ্চলে অতীতেও বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
বারবার ভূমিকম্পের ফলে বাঁধের আশেপাশের পাহাড় ও শিলাস্তর অস্থিতিশীল হয়ে ভূমিধস বা পাহাড় ধসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
ভূমিকম্পের কারণে বাঁধের মূল কাঠামো, ভূগর্ভস্থ টানেল বা পাওয়ার হাউস ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভাটি অঞ্চলে বিপর্যয়কর আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
এই বাঁধের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং পলিমাটি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাঁধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চিন ভাটির দেশগুলোর জন্য খরা বা আকস্মিক বন্যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে পারে, যা কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এই বাঁধের অবস্থান অরুণাচল সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের মেডোগ কাউন্টিতে।
৬০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তৈরি এই বাঁধ চিনের বিখ্যাত থ্রি গর্জেস ড্যাম কেও ছাড়িয়ে যাবে।