কী হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই? কমিশনের রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

41

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেগ। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কী হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আনতে কমিটি গঠন করেছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু ১৫ বছরেও তা প্রকাশ করতে পারেনি। আগামীকাল ৩৩ -তম ২১ শে জুলাই। তার আগেই রিপোর্ট পেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি জানান, “মণীশ গুপ্তের নির্দেশই গুলি চলেছিল। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা প্রমাণিত হয়নি।”
সাক্ষীদের তালিকাও তুলে ধরেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের প্রধান সাক্ষী হওয়ার কথা, তাকেই নাকি ডাকেনি কমিশন।

আজ ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য মোট ৪৪ জনকে তলব করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-সহ পুলিশের একাধিক কর্তা ছিলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার মূল সাক্ষী হওয়ার কথা থাকলেও, তাঁকেই ডাকেনি কমিশন। প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্য়োপাধ্যায়কে তলব করা হলে তিনি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করেছিলেন। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, যে মণীশ গুপ্তের নির্দেশে গুলিচালনার ঘটনা তাঁকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন মমতা। তাই সাক্ষ্য দেওয়া অযৌক্তিক্ত।

রিপোর্ট পড়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেদিন উসকানি ছাড়াই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলে গুলি। তবে তাঁকে কে নির্দেশ দিয়েছিল তা জানা যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী যেখানে গুলি চলেছিল, তা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেকটা দূরে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বিক্ষোভ আছড়ে পড়তে পারে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক আশঙ্কা। মেয়ো রোড, রেড রোড, ডোরিনা ক্রসিং-যেখানে যেখানে গুলি চলেছিল, তা পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়।

কিন্তু শহিদদের হয়ে সর্বদা সুর চড়ালেও কেন কমিশনের রিপোর্ট ফাইল বন্দি করেই ফেলে রাখল তৃণমূল সরকার?

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেনি মমতা। শহিদ স্মরণে প্রতিবছর বিরাট আয়োজন। কিন্তু ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টাই করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কি স্রেফ ভোটবাক্স‌ই শেষ কথা ছিল ? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।