প্রশ্নফাঁস ঘোর পাপ, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর

41

নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসে অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও সরাসরি তাঁর কথা শোনা যায়নি, বরং এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন সেটাই প্রকাশ্যে বলেছেন সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রিজিজু জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নফাঁস ঘোর পাপ। এবিষয়ে সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ করেছে, ১৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে প্রশ্নফাঁস দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পড়ুয়াদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিরেন রিজিজু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে একযোগে ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও সুযোগ না থাকে।
এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। মঙ্গলবার স্পিকার ওম বিড়লার ঘরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা স্পিকারের ঘরে গিয়ে এবিষয়ে আলোচনা করেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, পড়ুয়াদের আন্দোলন ও দাবির যুক্তি আছে। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক সরকার।
প্রশ্নফাঁসের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। এই দাবিতে ‘ককরোচ’ দলের প্রতিবাদমঞ্চে যোগ দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। এখনও পর্যন্ত অনশন ভাঙেননি তিনি।
প্রতিবাদ মিছিল আটকাতে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল পুলিশ। তবে পুলিশের সব বাধা কাটিয়ে সংসদ ভবনের বেশ কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা। যদিও শেষপর্যন্ত সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছোতে পারেননি তাঁরা।
জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। ধরপাকড় করে পুলিশ। যদিও শেষপর্যন্ত ককরোচ দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে চার ঘণ্টা বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সংসদ ভবনে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না-দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন। ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ-অভিযানে পুলিশের ভূমিকার নিন্দা করে তিনি বিবৃতি দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শামিল যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে নৃশংস আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, অনশন চালিয়ে যাব।