নিউজ ডেস্ক: বিধ্বংসী বন্যায় অসমে প্রাণ গেছে ৮২ জনের। বন্যার জলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত অসমের শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট ও যোরহাট জেলা। বিভিন্ন এলাকায় বন্যার জল কমলেও জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফেরেনি। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ভেসে গিয়ে বন্যার্তদের সামনে রয়েছে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
এরকমই একটি এলাকা শিবসাগর জেলার বিহুবরের নেপালি খুঁটি। বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে গোটা গ্রাম। এরকম জল কখনো দেখেনি বলছে এলাকার বাসিন্দারা।
গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের বাড়িঘর ভেসে গেছে। বছরের পর বছর ধরে যা সঞ্চয় করেছিল সব গেছে বন্যার জলে ভেসে। গ্রামের মানুষ ঘরহারা হয়ে গিয়েছিল আশ্রয় শিবিরে। একাংশ গ্রামে ফিরলেও স্বস্তি নেই। অধিকাংশ ঘরেই জমেছে কাদামাটি, আসবাবপত্রের চরম ক্ষতি হয়েছে। নথিপত্র ভিজে গেছে আর তার পাশে ছড়িয়ে রয়েছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
ঘরবাড়ি পরিষ্কার তো বটেই নতুন করে ঘর তৈরিও করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কিন্তু সংশয় রয়েছে নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জলের। কবে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরবে নেপালি খুঁটিতে কেউ জানে না।
শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট ও নগাঁও জেলায় বন্যার জল কমে সামান্য উন্নতি হয়েছে পরিস্থিতির। কিন্তু এখনও ১৭ রাজস্ব চক্রের ৩৭৯ গ্রাম জলের তলায় রয়েছে।
এখনও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দুলক্ষ মানুষ। চরাইদেও জেলার ৭৭,৪৫৬ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, এর পরই রয়েছে শিবসাগর, ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৬৩,৪৯২ এবং যোরহাটে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৪ হাজার।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও ৫৪টি আশ্রয় শিবির চলছে। যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ঘরহারা ১৩ হাজার মানুষ। এ ছাড়া ২৬টি ত্রাণবণ্টন কেন্দ্র থেকে খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে ৫৩৮৪ বন্যার্তকে।
দুর্গতদের উদ্ধার, ত্রাণ বণ্টন এবং পুনর্বাসনের কাজে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ কর্মীদের পাশাপাশি নেমেছে বিভিন্ন অসরকারি সংস্থা, সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ।
বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি। এখনও গোটা অসমে ১৫,৪৩০ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়। ফসলের অপরিসীম ক্ষতি হয়েছে বন্যায়।